১৯৫০ সাল থেকে ভারতে প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয়। আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিন এটি। এদিনেই কার্যকর হয়েছিল ভারতীয় সংবিধান। এদিন ভারত এক রিপাবলিকান ইউনিট হয়ে ওঠে। এই বিশেষ দিনে প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গভর্নমেন্ট হাউসের দরবার হলে শপথ নেন।
প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরই দিনটিতে ভারতে একটি কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। ১৯৫০ সাল থেকে চলে আসছে এই রীতি। আমন্ত্রিতদের তালিকায় স্থান পেয়েছে ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তান ও চীনও। তবে এখন পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে।
১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মোহাম্মদ ও ১৯৬৫ সালে দেশটির খাদ্যমন্ত্রী রানা আব্দুল হামিদ প্রধান অতিথি হয়ে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস প্যারেডের সালাম গ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে চীনের মারশাল ইয়ে জিয়ানইং-কে প্রধান অতিথি করে চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়া ভারত।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া সবাই ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অতিথি হয়েছে। যার মধ্যে ভুটানের রাষ্ট্রপ্রধান প্রধান অতিথি হয়েছে ৪ বার এবং শ্রীলঙ্কা হয়েছে দুবার। এছাড়া নেপাল, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান একবার করে প্রধান অতিথির মর্যাদা পেয়েছে।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের তালিকায় ঠাঁই পাওয়াদের মধ্যে আছেন কঙ্গো, টোবাগো, জাম্বিয়ার, কাজাখাস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানও। অথচ কখনো আমন্ত্রণ পায়নি বাংলাদেশ। সবচেয়ে বেশি ৬ বার যোগ দিয়েছেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান। চার বার করে যোগ দিয়েছে ভুটান ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান।
প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি কে হবেন, দীর্ঘ আলোচনার পরই সেই সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। এক্ষেত্রে নিজেদের কূটনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় দেশটি। বিবেচনায় রাখা হয় ভারতের সঙ্গে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ নানা বিষয়। আর এসব ক্ষেত্রে ঢাকা-দিল্লির বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়।
যে দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারত সক্রিয় অংশ নিয়েছিল, যে দেশকে ভারত সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশীর স্বীকৃতি দেয়, সেই দেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীকে প্রজাতন্ত্র দিবসে বিশেষ অতিথির মর্যাদা কেন দেয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।