লুৎফুন্নাহার রুমা,ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহে দুই জুয়েলার্সে চুরি হয় এক সপ্তাহের ব্যবধানে। ময়মনসিংহ জেলার সদর ও ভালুকা উপজেলার দুইটি জুয়েলারি দোকানে চুরির ঘটনাটি ঘটে । এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সোনা ও রূপার অলংকার লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মালিকপক্ষ। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও এখনো এই চোর চক্রের সন্ধান মেলেনি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীসহ জুয়েলার্স ব্যবসায়ী মালিক ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, দুটি ঘটনারই পৃথক পৃথক তদন্ত চলছে।
শিগগিরই এই চোর চক্রকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে গতকাল বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর ৩২ নম্বর বাসাবাড়ী রোড ট্রাঙ্কপট্টি এসএস কমপ্লেক্সের কিরণ জুয়েলার্সে একটি চুরির ঘটনা ঘটে। এতে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের ৩০ ভরি সোনা লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মালিক শ্রী রিপন সেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে ৬/৭ জন অজ্ঞাত লোক দোকানের সাটারের সামনে চাদর ও ছাতা ধরে রেখে ৪টি তালা ভেঙে এক নারীকে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ৩০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে গেছে।
এ সময় মার্কেটের নাইটগার্ড তাদের শব্দ শুনে বেরিয়ে এলে তারা আসামি ধরতে এসেছে বলে ডিবি পুলিশের ছদ্য বেশের পরিচয় দেয়। এ ঘটনায় রোজ বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) অজ্ঞাতদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করে। সেই সঙ্গে এ ঘটনার খবরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে র্যাব, ডিবি ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান ভুক্তভোগী রিপন সেন। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। খুব দ্রুত এই চোর চক্রকে ধরতে অভিযান চলমান আছে।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি জেলার ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের বাটাজোর বাজারের আঙ্গারগাড়া সড়কে শ্রী রতন কর্মকারের হৃদয় অ্যান্ড সুজয় জুয়েলার্সে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দোকানের সাটার খুলে প্রায় ২০ ভরি সোনা এবং একশ ভরি রূপা লুট করে অজ্ঞাত চোর চক্র। ভুক্তভোগী রতন কর্মকার বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে খাবার খেতে বাসায় যাওয়ার সুযোগে ওই চোর চক্র অভিনব কৌশলে দোকানের সাটার খুলে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনাতেও ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ কামাল আকন্দের বক্তব্যে বলেন চেষ্টার কোনো ট্রুটি রাখা হয়নি পুলিশ ততপর । তবে এ ঘটনায় জড়িত চোর চক্রকে খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
কিউএনবি/আয়শা/২০ জানুয়ারী ২০২৪,/রাত ৯:৫০