মোঃ সালাহউদ্দিন আহমেদ: নরসিংদী সদর উপজেলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই সব হাট বাজারগুলোতে অবাধে গবাদিপশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই। জবাই করা পশুর শরীরে কোনো রোগ বালাই রয়েছে কিনা এমন কোনো ধারণা ও রাখেন না ক্রেতা বিক্রেতারা। জানা গেছে, সদর উপজেলার নরসিংদী পৌর এলাকা, মাধবদী পৌর এলাকাসহ ইউনিয়ন গুলোর বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতিদিন অন্তত ২০ টির মতো গরু ও ১৫ টির মতো ছাগল ও ভেড়া জবাই করা হয়। প্রতিটি হাট বাজারে যেদিন বাজার বসে সেদিন বেশি গরু, ছাগল ও ভেড়া জবাই করা হয়।
প্রতিটি গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও নিয়ম মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে কয়েকটি বাজারে ব্যবসায়ীরা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। তাদের গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ছাড়পত্র আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয় তা তারা জানেন না। তবে বেশির ভাগ গবাদিপশু ভালো থাকায় ছাড়পত্র নেওয়া হয় না। তবে সাধারণ জনগণ নিয়ম কানুন না জেনেই কিনছেন মাংস। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সরকারি প্রজ্ঞাপন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এ ব্যাপারে তাদের কোনো তৎপরতা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা ও সাধারণ মানুষ।
উপজেলার পাঁচদোনা বাজারে আসা আলতাফ হোসেন নামের এক মাংস ক্রেতা জানান, কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কোনো তদারকি না থাকায় সাধারণ জনগণ মরা গবাদিপশু, নাকি রোগাক্রান্ত গবাদিপশুর মাংস খাচ্ছে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। পাশাপাশি ধর্মীয় নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে পশুটি জবাই করা হচ্ছে কি না সেটাও সকলের অগোচরে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.ছাইফুল ইসলাম সংবাদ সারাবেলাকে বলেন, আমি এ জেলায় এসেছি অল্প কিছু দিন হয় এরমধ্যে ভেলানগরসহ চারটি স্পটে মাঝেমধ্যেই আমরা তদারকি করছি। এই কর্মকর্তা আরও বলেন আমাদের নিয়মিত সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করবো এবং পৌর মেয়রের সাথে কথা বলে আমরা তদারকির বিষয়টিকে আরো গুরুত্বসহকারে দেখবো।
কিউএনবি/অনিমা/২৪ নভেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৪০