বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা এসে ঘন্টা দু’য়েক পরই আবার ফিরতি পথে চলে আন্ত:নগর মহানগর এক্সপ্রেস। বৃহস্পতিবার এক ঘন্টার মতো বিলম্বে ট্রেনটি ঢাকায় পৌছার কথা। সেই হিসেবে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে ধরে নিয়ে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন চাকরিজীবী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের বাসিন্দা পলাশ সাহা।কথা হলে তিনি জানালেন, নির্ধারিত সময় ৯টা ২০ এর বদলে ট্রেনটি প্রায় পৌণে দুইঘন্টা বিলম্বে কমলাপুর ছাড়ে। আখাউড়া আসার পথে ভৈরব এসে বিজয় এক্সপ্রেস পিছন দিক থেকে যাওয়ায় সেখানে আধাঘন্টার মতো বিলম্ব হয়। ট্রেনটি আখাউড়ায় আসতে আসতে সব মিলিয়ে তিন ঘন্টার মতো বিলম্ব হয়।শুধু মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন নয় পূর্বাঞ্চল রেলপথে প্রায় প্রতিটি ট্রেনই গত সপ্তাহ ধরে নির্ধারিত সময় থেকে অনেক বিলম্বে চলাচল করছে। গত এক সপ্তাহের চলাচল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী সুরমা মেইল ট্রেন একাধিক দিন ১২ ঘন্টার বেশি সময় বিলম্বে গন্তব্যস্থলে এসে পৌঁছে। অন্যান্য ট্রেনের বেশিরভাগই ওই সময়টাতে বিলম্বে চলাচল করছে। ট্রেন চলাচলে এমন অনির্ধারিত বিলম্বের কারণে যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল করানো দাবি তুলেছেন পূর্বাঞ্চল রেলপথে চলাচলকারি নিয়মিত যাত্রীরা।
রেলওয়ে একাধিক সূত্র জানায়, মূলত ঢাকার কমলাপুরে পয়েন্টস এর কাজ করা ও অবরোধের কারণে ট্রেনের বিলম্ব হচ্ছে। বেশ কিছুদিন যাবত কমলাপুর ঢোকার পথে পয়েন্ট এর কাজ চলতে থাকায় ট্রেন প্রবেশ করানোর পাশাপাশি বের করাতে দেরি হয়। অবরোধের কারণে ট্রেন কোথাও আটকা না পড়লেও সাবধনতা অবলম্বনের চিঠির প্রেক্ষিতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বেশিরভাগ ট্রেনটি আপ-ডাউন (যাওয়া-আসা) পথে একই রেক ব্যবহার করা হয় বলে একবার বেশি বিলম্ব হলে সেটি কমিয়ে আনা কষ্ট হয়ে পড়ে। কেননা, ট্রেনটি গন্তব্যস্থানে পৌঁছার পর ফিরতি পথে যাওয়ার নির্ধারিত সময় কম সময়ের মধ্যে হয় বলে সমস্যা দেখা দেয়।একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী কর্ণফুলি এক্সপ্রেস (৪ ডাউন) ট্রেন সকাল ৮টা ৪৫ এ ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি শুক্রবার সোয়া চারঘন্টা বিলম্বে ছাড়ে। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জগামী এগার সিন্দুর প্রভাতী একই বিলম্বে বেলা পৌণে ১২টায় ঢাকা ছেড়ে যায়। ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পথের তিতাস কমিউটার সোয়া এক ঘন্টা বিলম্বে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় বেলা ১১টায়। প্রায় এক ঘন্টা তিন মিনিট বিলম্বে ১২টা ৪৮ মিনিটে উপকুল এক্সপ্রেস নোয়াখালী থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছে। বেলা পৌণে দুইটায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়েনি। ট্রেনটির ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় বেলা ১১টা ১৫ মিনিট। বেলা একটায় ছাড়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রাম অভিমুখী চট্টলা এক্সপ্রেস পৌণে দুইটা নাগাদ ঢাকা ছাড়েনি। এছাড়া মহানগর প্রভাতী, কালনী এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ সব কয়টি ট্রেনই বিলম্বে চলাচলের তথ্য পাওয়া যায়। তিতাস কমিউটার ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউড়ার নিয়মিত যাত্রী তাপস পাল বলেন, ‘কয়দিন ট্রেনের ট্রেনটির টাইম টেবিলের কোনো ধরণের বালাই নেই। তিন-চারদিন আগে ট্রেনটি চারঘন্টার বেশি দেরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আসে। রাতের বেলা হওয়ায় সড়ক পথে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না বলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে তাদেরকে ট্রেনে চড়তে হয়।
কুমিল্লা যাওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রী মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় কথা হলে বলেন, ‘বেলা সোয়া তিনটা থেকে তিনি চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে আসার পর স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার বলেছে ট্রেন ঢাকা আছে। কিন্তু কখন ছাড়বে বলতে পারেননি তারা। কুমিল্লা যাওয়ার আরেকটি ট্রেন উপকুল এক্সপ্রেস দুই ঘন্টার বেশি বিলম্বে ঢাকা ছাড়ে বলে জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় তিনি উপকুলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছেন।বাংলাদেশ রেলওয়ে লোকোমাস্টার রানিং স্টাফ শ্রমিক কর্মচারি সমিতি আখাউড়ার সাধারন সম্পাদক ও লোকোমাস্টার (ট্রেন চালক) মো. রফিকুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বলেন, ‘অবরোধ থাকলে চালকদেরকে বলে দেওয়া হয় সতর্কতার সঙ্গে চলতে। এছাড়া সতর্কতার অংশ হিসেবে হেলমেট পরিধান করতে বলা হয়। মূলত সতর্কতার সাথে চলতে গিয়ে নির্ধারিত সময় মেনে চলা যায় না। এ বিষয়টির পাশাপাশি ঢাকার কমলাপুরে পয়েন্ট এর কাজ করায় কয়েকদিন ধরেই ট্রেনের বিলম্ব হচ্ছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন চালক ট্রেন চালানোর পর নির্ধারিত সময় বিশ্রাম নিতে হয়। এক্ষেত্রে একটি ট্রেন নিয়ে বিলম্বে পৌঁছলে পরবর্তী ট্রেনে উঠার আগে বিশ্রামের নির্ধারিত সময়টা পার না হলে জবাবদিহিতা করতে হয়। এক্ষেত্রে চালকরা সতর্কতা অবলম্বন করে নিময় মেনেই ট্রেনে উঠেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মো. জসিম উদ্দিন ট্রেন বিলম্বে চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘বিলম্বে ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে। যতটুকু জানতে পেরেছি ঢাকায় পয়েন্টস এর কাজ করছে বলে সমস্যা হচ্ছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৭ নভেম্বর ২০২৩,/রাত ১১:৪৮