স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : যশোরের মনিরামপুরে সরকারি ৫৫৫ বস্তা চাল পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চুর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।
ফলে ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সন্দীপ ঘোষ বাদি হয়ে হাইকোর্টে রিটটি দাখিল করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের যৌথ বেঞ্চে শুনানি শেষে মঙ্গলবার(৩১ অক্টোবর) উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু স্বপদে(ভাইস চেয়ারম্যান) বহাল থেকে দায়িত্ব পালন কেন অবৈধ হবেনা জানতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব, যশোরের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চুকে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফ আহমেদ।
জানাযায়, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল পুলিশ মনিরামপুর পৌরশহরের বিজয়রামপুরে ভাইভাই রাইস মিল এন্ড চাতালে অভিযান চালিয়ে সরকারি কাবিখার ৫৫৫ বস্তা চাল জব্দ করেন। এ সময় আটক করা হয় চাতাল মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ট্রাক চালক ফরিদ হাওলাদারকে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে প্রতিমনস্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যরে ভাগ্নে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান যুবলীগ আহ্বায়ক উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরে যশোরের ডিবি পুলিশের ওসি সোমেন দাশ ১ অক্টোবর ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী বাচ্চুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট(অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। চার্জশিটে উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন পৌরশহরের ভাইভাই রাইস মিলের মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ট্রাকচালক ফরিদ হাওলাদার, চাল পাচার সিন্ডিকেট নেতা পৌরশহরের তাহেরপুর এলাকার শহিদুল ইসলাম, সিন্ডিকেটের প্রধান আদায়কারী পাতন-জুড়ানপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী জগদীস দাস, পৌর কাউন্সিলর আবদুল কুদ্দুস। এরমধ্যে আব্দুলাহ আল মামুন, ফরিদ হাওলাদার, শহিদুল ইসলাম, জগদীস দাস ও আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে ত্রানের সরকারী চাল ক্রয়-বিক্রয়ে সার্বিক সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তিতে ভাইস চেয়ারম্যানসহ সব আসামি আদালত থেকে জামিন পান। মামলাটি এখনও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ দিকে হাইকোর্টের রুল জারি সম্পর্কে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু জানান, তিনি এ ব্যাপারে আদালত থেকে কোন আদেশ এখনও হাতে পাননি। তবে রুলের বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
কিউএনবি/আয়শা/০১ নভেম্বর ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:২০