শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‎লালমনিরহাটে ‘ভোল বদল’ রাজনীতির কারিগর সোহরাবের পদত্যাগ, আলোচনার কেন্দ্রে ‘সুবিধাবাদ’ দুর্গাপুরে হাম-রুবেলার টিকার ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলই ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’: পেজেশকিয়ান নেত্রকোণায় পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ পালিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেত্রকোনায় ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মানববন্ধন আশুলিয়ায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন বাংলাদেশ সিরিজ থেকে শিখতে চায় নিউজিল্যান্ড ঢাবির কলা অনুষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সভাপতি তামিম প্রসঙ্গে যা বললেন অধিনায়ক মিরাজ নরসিংদীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ 

চৌগাছায় ফসল রক্ষায় মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কৃষক

এম এ রহিম চৌগাছায় (যশোর)
  • Update Time : বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৩
  • ২০৬ Time View

এম এ রহিম চৌগাছায় (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় ক্ষেতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে। কোনো প্রকার শারীরিক সুরক্ষা ছাড়াই ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করে থাকেন কৃষকরা। অজ্ঞতার ফলে ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কৃষকরা।উপজেলায় কীটনাশক প্রয়োগে কৃষকদের মধ্যে অজ্ঞতা ও অসচেতনতা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পরিবেশকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সেই সাথে কৃষকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধিতে। সারা বছর জুড়ে সিম, করোলা, পোটল, টমেটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা, বেগুন, মরিচ, ধান, গম ও বিভিন্নসবজিসহ সব ফসলকে রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে কৃষকরা তাদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক দিয়ে থাকেন। তবে সঠিক পরামর্শের অভাবে নিরাপদ পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যবহার না করায় কৃষকরা রয়েছেন ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

সরেজমিনে উপজেলার সুখপুকুরিয়া, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ, ধুলিয়ানী, পাশাপোল, ফুলসারা, সিংহঝুলী,পাতিবিলা, জগদিশপুর, হাকিমপুর, চৌগাছা সদর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় মাঠে দেখা গেছে, কৃষকরা তাদের ফসলের জমিতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। কারো নাকে-মুখে কোনো কাপড় বা মাস্ক নেই। অনেক কৃষককে দেখা গেছে টি-শার্ট পরে জমিতে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন। কেউবা আবার ধানের জমিতে সারের সাথে আগাছানাশক মিশিয়ে হাতমোজা ছাড়াই হাত দিয়ে ছিটাচ্ছেন। কীটনাশকের প্যাকেট বা বোতলের গায়ে ¯পষ্ট অক্ষরে বিষ লেখা থাকলেও তা কেউ আমলেই নিচ্ছেন না। নিয়মনীতি না মেনেই এলাকার কৃষকরা যে যার মতো জমিতে কীটনাশক স্প্রে ছিটাচ্ছেন।উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের কৃষক নুরনবী বলেন, আমাদের এলাকা সবজিজোন হিসেবে খ্যাত। মাঠের পর মাঠবেগুন, পটল, করোলা, সিম ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ রয়েছে। সজবি ক্ষেত রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে জমিতে কীটনাশক দিয়েছি। বিশেষ করে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় সবজি ক্ষেতে সপ্তাহে দুই দিন কীটনাশকস্প্রে করতে হয়।

একই গ্রামের কৃষক আরমান আলী বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে জমি লিজ-বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি। চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করেছি। চারা রোপনের পর এ সময়টাতে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে জমিতে কীটনাশক দিতে হচ্ছে।পৌর এলাকার তারনিবাস গ্রামের কৃষক হাসানুর রহমান বলেন, কীটনাশক ছিটানোর সঠিক কোনো পদ্ধতি আমার জানা নেই বা কেউ পরামর্শও দেয়নি। কীটনাশক ছিটানোর সময় খুবই দুর্গন্ধ হয়। ছিটানোর পর প্রচন্ড মাথা ঘোরে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধাও দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিয়ে থাকি।

উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আল-ইমরান বলেন, কীটনাশক ছিটানোর সময় নিরাপদ পোশাক ব্যবহার না করলে নাক ও মুখ দিয়ে বিষ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে বিষক্রিয়া হতে পারে। প্রতিনিয় এমন ভাবে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করলে কৃষকের ফুসফুসি, লাঞ্চ, হার্ড এমনটি লেবার আক্রান্ত হতে পারে। এমন মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক স্প্রে করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন কৃষক। এতে মৃত্যুর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই জমিতে কীটনাশক ছিটানোর ক্ষেত্রে নাক-মুখে মাস্ক ও হাতে মোজা ব্যবহার করতে হবে। নিয়মজমিতে কীটনাশক ছিটানোর বিষয়ে কৃষকের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, কৃষকদেরকে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছি। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে জমির উর্বরা শক্তি কমে যায়। তাই কীটনাশক ব্যবহার না করে অধিক ফসল ফলানোর জন্য জৈব পদ্ধতির মাধ্যমে চাষ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। কৃষকদের এ সকলবিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৪ অক্টোবর ২০২৩,/দুপুর ২:৩১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit