খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিদি : ৭১’রে পাঁ ফেলেছেন অন্ধ বাঁশি বাদক বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম। ইতোমধ্যেই দীর্ঘ জীবনের ৫০টি বছর পার করেছেন বাঁশি বাজিয়ে। বাঁশি বাজানো নেশা নয় শুধু পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি। এখন বৃদ্ধ রফিকের বাঁশি বাজাতে হয় পেটের দায়ে।অন্ধ রফিক আব্দুর রহিম ও সোহগ নামে দুই সন্তানের পিতা। তারা সুস্থ-সবল পুরুষ। অন্ধ পিতার কষ্টার্জিত অর্থে বড় হয়েছেন সন্তানেরা। এখন তারা বিবাহ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা সংসার গড়েছেন। অন্ধ বাঁশি বাদক রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম হয়ে গেছেন অসহায়। জীবন বাঁচাতেই এই বয়সে রফিকুল ইসলাম মুন্সীকে বাঁশি বাজিয়ে হাট-বাজারে চকলেট বিক্রি করতে হয়। অনেক সময় চকলেট ক্রয়ের টাকার অভাবে অলস সময় কাটাতে হতো রফিককে। ইতোমধ্যে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। এর পরে বিষয়টি শরীয়তপু জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় রফিককে স্বাবলম্বি করার। এর পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অন্ধ বাঁশি বাদক রফিকুল ইসলাম মুন্সীকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ৯ হাজার পিস চকলেট সহায়তা হিসাবে প্রদান করা হয়।অন্ধ বাঁশি বাদক বৃদ্ধ রফিকুল ইসলাম মুন্সীর হাতে নগদ অর্থ ও চকলেট তুলে দেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫২ সালে একটি দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। ৪ বছর বয়সে তিনি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসার অভাবে তার দুচোখ দৃষ্টিহীন হয়ে যায়। দৃষ্টিহীন অবস্থায় তিনি হয়ে পড়েন পরিবারের বোঝা। ভিক্ষাবৃত্তি পূর্বে থেকেই তার অপছন্দ ছিল। তাই তিনি ঢাকার বিভিন্ন বাস-ট্রেনে চকলেট বিক্রি শুরু করেন। বিশ বছর বয়সে পরিচয় তার এক বাঁশি বাদকের সাথে। সেই বাঁশি বাদকের কাছ থেকে তিনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এখন অন্ধ রফিক বাঁশি বাজিয়ে বৃদ্ধ বয়সে চকলেট বিক্রি করেন।