বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

টানা পঞ্চম দিনও অচল লোকসভা, বক্তব্যের সুযোগ পেলেন না রাহুল

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক  ডেস্ক : ভারতের চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা পঞ্চম দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে লোকসভার কার্যক্রম। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবারও (২৪ জুলাই) সরব ছিল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার বলেছে, বিতর্ক এড়াতে শর্ত জুড়ে দেওয়া দেশের জন্য ভুল বার্তা বহন করবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দিনের প্রথম দফার মুলতবি শেষে লোকসভার অধিবেশন শুরু হলে সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সরকার শুরু থেকেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের অনেক সদস্যই আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহী। তাই রাহুল গান্ধীর উচিত নিজের দলের সদস্যদের আলোচনায় অংশ নিতে রাজি করানো।

রিজিজু বলেন, আলোচনার আগে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা কিংবা অজুহাত দেখিয়ে বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া দেশের মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেবে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা হওয়াই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অংশ। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতে মামলা পরিচালনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া এ বিষয়ে প্রস্তাবিত আইনের খসড়া শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংসদবিষয়ক মন্ত্রী একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অনশনের পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে বিরোধীরা সরকারের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীকে আগে পদত্যাগ করতে হবে। এরপরই সংসদে আলোচনা হতে পারে। অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখতে চাইলে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী জগদম্বিকা পাল জানান, মন্ত্রীরা সংসদের প্রয়োজনীয় নথি উপস্থাপনের পর তাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সোমবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য আর শোনা যায়নি। গত পাঁচ দিন ধরেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে লোকসভার কার্যক্রম বারবার স্থগিত হচ্ছে। ফলে আইন প্রণয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এর আগে দিনের শুরুতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আগামী রোববার পালিত হতে যাওয়া কারগিল বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী সদস্যরা আবারও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান শুরু করেন। স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন, সংসদের নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস তিনি আগেই দিয়েছেন। তবুও বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় শুক্রবারও কার্যত কোনো কাজ ছাড়াই লোকসভার অধিবেশন শেষ হয়।

প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের এই অচলাবস্থা কবে কাটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সরকার কঠোর আইন আনার প্রস্তুতির কথা জানালেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে একচুলও সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। ফলে আগামী সপ্তাহেও সংসদে একই ধরনের উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ জুলাই ২০২৬,/রাত ১০:৫৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit