ইমরান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান ও তার দল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
ওয়াসিম বলেন, রাজনৈতিকভাবে ইমরানের সঙ্গে যা ঘটছে, সেটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও আদালতের বিষয় আদালতের নিয়মেই চলবে। তবে একজন মানুষ ও বন্ধু হিসেবে ইমরানের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে দেশটির ২২ জন সাবেক অধিনায়ক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে চিঠি দিয়ে ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের আরও কয়েকজন তারকা। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা এবং পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদ, মঈন খান ও রামিজ রাজা বিভিন্ন সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ইমরানের দুই ছেলে সুলেইমান খান ও কাশিম খানও বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইংল্যান্ড-পাকিস্তান টেস্ট চলাকালে স্কাই স্পোর্টসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কার কথা জানান।
ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ওয়াসিম বলেন, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ইমরান তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানান তিনি।
১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন ওয়াসিম। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ১৮ বলে ৩৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের নির্দেশে তাকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তি করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল পিআইএমএসে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র: ইএসপিএন ক্রিকইনফো