আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে মরক্কোর মারাকেশ প্রদেশ। সেখান থেকে ৭১ কিলোমিটার দূরে এটলাস পর্বতমালা এলাকার ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর সেখানে অসংখ্য বাড়ি-ঘর ধসে পড়েছে। ফেটে গেছে অনেক ভবনের দেয়াল। আশ্রয়হীন হয়েছে বহু মানুষ।
আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতা নিকোলাস হক জানিয়েছেন, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মারাকেশে সরকারি সাহায্য পাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। ফলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বর্তমানে তারা একে অপরের ওপর নির্ভর করে তাঁবু স্থাপন করছে। আর এই কাজে এগিয়ে আসছে শিশুসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
মারাকেশের ওইরগান শহর থেকে নিকোলাস আরও জানান, আমরা কিছু গ্রাম শনাক্ত করেছি। কিন্তু তাদের অনেকেই কোনও সাহায্য পায়নি। যদিও পরিস্থিতি জরিপ করার জন্য পাহাড়ের ওপর হেলিকপ্টারগুলোকে বারবার যেতে দেখা গেছে। মরক্কো কর্তৃপক্ষের জন্য এটি নতুন সংকট। বিশেষ করে সেখানে এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে লোকেরা ভীত এবং পরে কী হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ কারণেই মানুষ খাড়া পাহাড় থেকে দূরে তাঁবু ফেলেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মরক্কোয় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দুই হাজার ৮৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে আহতের সংখ্যাও, যা প্রায় দুই হাজার ৬২ জন। হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হতাহতদের উদ্ধারসহ জীবিতদের খুঁজে বের করতে মরক্কোর উদ্ধারকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে স্পেন, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের অনুসন্ধানী দল। যদিও সময়ের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩,/রাত ৯:২৫