জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : অপরাধ তদন্তে ডাক্তারি পরীক্ষা এবং নথিপত্র যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে সম্পর্কে গভীরভাবে আলোকপাত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের উদ্যোগে “Importance of Medical Examination and Documentation in Criminal Investigation” শীর্ষক এক সেমিনার আজ ১১ সেপ্টেম্বর (২০২৩) দুপুরে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন শাহারিয়া আফরিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ইমেরিটাস এবং ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস, ইন্ডিয়ার ইমেরিটাস ডক্টর পি এম ভুজং।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক শাখার ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম(বিপিএম)। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং ক্রিমিনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান। ড. জিয়া রহমান বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ক্রিমিনোলজির পরিচালনা পর্ষদের একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিভিন্ন বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সেমিনারে অপরাধ তদন্তের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করা, তদন্ত প্রক্রিয়ায় চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষা এবং নথিপত্রের তাৎপর্যের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। মূল বক্তব্যে ড. পি এম ভুজং অপরাধ অনুসন্ধানে মেডিকেল পরীক্ষা এবং ডকুমেন্টেশনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাস্তব প্রমাণে অভাবে অসংখ্য বিচারাধীন মামলার ন্যায়পূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব হয় না। তিনি বাংলাদেশ, ভারতের আইন ও বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য এবং তাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। সুস্পষ্ট ও বাস্তবিক অনুসন্ধানের জন্য পুলিশ, তদন্ত কর্মকর্তা, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব-কর্তব্যের ব্যাপারে সকলকে সচেতন করেন তিনি।
তিনি অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য আধুনিক ও পরিবর্তনশীল বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষা পদ্ধতির ধারণা প্রদান করেন।পাশাপাশি তাদের কার্যপ্রণালী এবং কার্যকারিতা সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি। আলোচকের বক্তব্যে ডিআইজি কে এম নাহিদুল ইসলাম বাংলাদেশে অপরাধ তদন্তের ইতিহাস হতে বর্তমান পর্যন্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়াশীল যাত্রা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির বিভিন্ন গবেষণা ও পরীক্ষাগারের বর্ণনা দেন তিনি।
বাংলাদেশের অপরাধ অনুসন্ধানে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ফলশ্রুতিতে বর্তমানে যেকোনো অপরাধ তদন্তে সকল প্রকার প্রমাণাদি প্রক্রিয়া করার সক্ষমতা অর্জনের কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে অপরাধ অনুসন্ধানের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি সত্ত্বেও যেকল সীমাবদ্ধতা ও বাঁধা রয়েছে, সেগুলো কতটুকু দূরীভূত হয়েছে এবিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত সংস্থা এবং আইন ও বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, অপরাধ তদন্তে বাংলাদেশে ব্যবহৃত ফরেনসিক পরীক্ষা, কার্যপদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতির ক্রমাগত উন্নীতকরণ প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে তাঁদের তৎপরতার ব্যাপারে সকলকে আশ্বস্ত করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান অপরাধ তদন্তে ডাক্তারি পরীক্ষার পরিসরটি কতটা বৃহৎ সেসম্পর্কে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অবগত করেন এবং অপরাধের তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ডাক্তারি পরীক্ষা ও নথিপত্রের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।
বাংলাদেশের আইনানুগ কার্যক্রমে বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা ও একে অপরকে দোষারোপ করার সংস্কৃতি সম্পর্কেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে অপরাধ বিজ্ঞানের নানা অঙ্গনে বিচরণ করবে। তাই শিক্ষার্থীদের অপরাধ বিজ্ঞানের এমন অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা, ফরেনসিক ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা জরুরী।
আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে আগত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নের জবাব দেন । সমাপনী বক্তৃতায় চেয়ারপার্সন শাহারিয়া আফরিন আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাধারণ শিক্ষার্থীবৃ্ন্দ এবং উপস্থিত সকলকে ক্রিমিনোলজি বিভাগের পক্ষ হতে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তিনি বয়স, লিঙ্গ, মানসিক প্রকৃতি ভেদে অপরাধের তদন্ত এবং অপরদের শনাক্তকরণে মেডিকেল পরীক্ষার অভূতপূর্ব অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের এমন অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ আলোচনা অপরাধবিদ্যা এবং ফরেনসিক বিজ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির উপর আলোকপাত করবে। ক্রিমিনোলজি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের ফরেনসিক অঙ্গনে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাত্রায় এক নতুন গভীরতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।
কিউএনবি/আয়শা/১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩,/বিকাল ৫:৪৮