মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুরাতন মালামাল ক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক হয়রানী বন্ধের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন ফুলবাড়ী ভাংড়ি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের পক্ষে লিখিত অভিযোগে সংগঠনটির কোষাধক্ষ্য মোঃ মিলন সরকার, পিতা- মৃত সফির উদ্দিন, গ্রাম- উত্তর সুজাপুর, উপজেলা- ফুলবাড়ী, জেলাদিনাজপুর।
তিনি লিখিত অভিযোগে বলেন, ফুলবাড়ী পৌর শহরে মোট ১৪টি পুরাতন মালামাল ও ভাংড়ী মালামাল ক্রয়ের দোকান রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২শতাধিক গরিব ভাংড়ী ক্রয়ের ভ্যানচালক গ্রামগঞ্জে গিয়ে পুরাতন মালামাল ক্রয় করে এনে আমাদের দোকানগুলিতে বিক্রয় করে থাকেন। আমরা প্রতিটি মালামাল ক্রয় করার পূর্বে যাচাই বাছাই করে ক্রয় করি। গত ১৪/০৮/২০২৩ ই তারিখে ফুলবাড়ী উপজেলার পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ডের মেসার্স শুভ-শামস্ ষ্টোর এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ আবুল বাশারের ভাংড়ীর দোকানে ফুলবাড়ী থানায় কর্মরত এসআই আলমগীর এর এস-২ পিকআপ এর ড্রাইভার মোঃ আমিনুল ইসলাম উক্ত গাড়িটিতে নতুন ব্যাটারী সংযোজন করে পুরাতন ব্যাটারীটি বিক্রয় করতে আসে।
উক্ত থানার কর্মরত এসআই আলমগীর ড্রাইভারের কাছে পুরাতন ব্যাটারীটি চায়, কিন্তু উক্ত ব্যাটারীটি ড্রাইভার বিক্রয় করেছে বলে মালিককে জানান। কিন্তু গাড়ির মালিক এসআই আলমগীর না বুঝে উল্টো তার গাড়ির ড্রাইভারকে ব্যাটারী কোথায় বিক্রয় করেছে জিজ্ঞাসা করে। সে সৎ মনোভাবে বলে ব্যাটারীটি মেসার্স শুভ-শামস্ ষ্টোর এর সত্ত্বাধিকারী মোঃ আবুল বাশারের ভাংড়ীর দোকানে বিক্রয় করি। এসআই আলমগীর তার পুত্র মোঃ রিয়াদ আলমগীর আরিফকে বাদী করে তাৎক্ষনিক থানায় একটি এজাহার দায়ের করে। যাহাতে বিক্রয়কারী ড্রাইভার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও ক্রয়কারী মোঃ শামস্ কে আসামি করা হয়।
মামলার সূত্র ধরে শুভ-শামস্ ষ্টোরে গিয়ে আবুল বাশারের দোকানে ব্যাটারী ফেরৎ চাইলে আমরা জানতে পারি মালিকের অনুমতি ছাড়াই ব্যাটারীটি বিক্রয় করেছে তার গাড়ির ড্রাইভার। তাৎক্ষনিক উক্ত ব্যাটারীটি আমরা ফেরৎ প্রদান করি। ব্যাটারী ফেরত দেওয়ার পর জানতে পারি শুভ-শামস্ ষ্টোরের মালিক আবুল বাশারের বড় ছেলে শামস্কেও ঐ মামলায় আসামি করা হয়েছে। অথচ ব্যাটারীটি নিয়ম অনুযায়ী একজন ড্রাইভারের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়েছে। চিহ্নিত কোন চোরের কাছ থেকে ক্রয় করা হয়নি। আমরা সব সময় সতর্কতার সাথে সরকারি মালামাল ও চিহ্নিত চোরদের কাছ থেকে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিরত থাকি।
কিন্তু আমরা ভাংড়ী ব্যবসায়ী কমিটির সকলে মিলে এই বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আবেদন করি। আমাদের কাহারও কথা তিনি কর্ণপাত না করে নিরপরাধ শামস্কে মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। যাহাতে ফুলবাড়ী ভাংড়ী ব্যবসায়ী সমিতি মর্মাহত হয়েছে। এই ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার দাবীতে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফুলবাড়ী সার্কেল, ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ফুলবাড়ী পৌর মেয়র বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কিউএনবি/আয়শা/২০ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৫:২১