আব্দুর রহিম মন্ডল চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় জনবল সংকটে খুড়িয়ে চলছে মৎস অফিসের কার্যক্রম। ছয় জন কর্মকর্তা-মর্কচারীর স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র একজন কর্মকর্তা ও এক কর্মচারী। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে পারছে না সকারের এ দপ্তরটি। জনবল সংকট থাকায় সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। এদিকে এ দপ্তরটির নিজস্ব কোন ভবণ ও দপ্তর না থাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে ২৫ জুলাই র্যালী ও আলোচনা সভা শেষে “নিরাপদ মাছে ভরবোদেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মুক্ত জলাসয়ে মাছের পোনা ছেড়ে জাতীয় মৎস সপ্তাহের উদ্ধোধন করা হয়েছে। জনবল ব্যাপক সংকট থাকায় সরকারের এ কর্মসুচি বাস্তবায়ন হবে কিনা তাতে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। উপজেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, এ দপ্তরটিতে একজন জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা, একজন মৎস সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী মৎস কর্মকর্তা, ক্ষেত্র সহকারী, কার্যালয় সহকারী ও কার্যলয়সহায়কের একটি করে মোট ছয়টি পদ রয়েছে। এ ছয়টি পদের মধ্যে কার্যলয়টিতে কর্মরত আছেন একজন জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ও একজন কার্যলয় সহায়ক। বাকী চারটি পদে দীর্ঘ দিন লোক না থাকায় উপজেলার মৎস চাষীরা কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
উপজেলা মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৫৫২ ছোট-বড় পুকুর রয়েছে যার আয়াতন ২২ হাজার ১০ হেক্টর। যেখান থেকে প্রতি বছর মাছ উৎপাদন হয় ১৬৯৩.৬৫ মেট্রিকটন। ৭টি সরকারি জলাশয় ও ২৫ টি খাল রয়েছে যার আয়াতন ১০০ হেক্টর, মাছ উৎপাদন হয় ৬৩২০.২৩ মেট্রিকটন। ৭টি সরকারি বাওড় রয়েছে, যার আয়াতন ৪০৮ হেক্টর, মাছ উৎপাদন হয় ১৩ হাজার ২০মেট্রিকটন। ৫টি সরকারি বিল রয়েছে যার আয়াতন ১৯৮০ হেক্টর, মাছ উৎপাদন হয় ১৫৬২ মেট্রিকটন ও ৩টি নদী রয়েছে যার আয়াতন ১৪৬ হেক্টর, মাছ উৎপাদন হয় ৮৭ মেট্রিকটন। ৩ হাজার ১৭০ জন মৎসচাষি এসব জলাশয়ে বাণিজ্যকবাভে মাছ চাষ করেন। এ ছাড়াও এ উপজেরায় প্রায় ২ হাজার ৭ শত মৎসজীবি রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ জনবল সংকট থাকায় কার্যালয়টির সেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার জামালতা গ্রামের মৎসচাষি আনিছুর রহমান সর্দার বলেন, আমার ৫টি পুকুর ও ৪ টি বিলে মাছ চাষ রয়েছে। কিন্তু উপজেলা মৎস অফিসের জনবল না থাকায় কোন সমস্যায় পড়লে, সময় মতো প্রতিকার বা পরামর্শ না পাওয়ায় এ বছর অনেক টাকার মাছ মরে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আমি লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অফিসে জনবল না থাকায় আমার মতো মৎস চাষীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা হরিদাস কুমার দেবনাথ বলেন, এ কার্যালয়টিতে জনবল না থাকায় কাঙিক্ষত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া কার্যলায়ের কাজের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে অনেক কাজ রয়েছে। সবমিলিয়ে কোন মতে প্রতিদিনের কাজ শেষ কারা ব্যাপক কষ্ট হয়ে যায়। যশোর জেলা মৎস কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ বলেন, জনবল ও নিজস্ব ভবণের জন্য একাধিক বার সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ভাবে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অতি কমসময়ের মধ্যে আমরা নিজস্ব ভবণ ও কিছু হলেও জনবল পাবো।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ অগাস্ট ২০২৩,/বিকাল ৫:০০