খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে পুকুর-দিঘি, খাল-বিলসহ সকল প্রকার জলাধার। বাণিজ্যিক ভাবে লাভবান হতেই জলাধার ভরাট হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এতে জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে প্রভাব ফেলছে প্রাণিকূলে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সাময়িক ভাবে জলাধার ভরাট বন্ধ হলেও শেষ রক্ষা হয়নি একটিরও।জেলা জুড়ে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে জেলা শহরে ৭০ শতাংশ জলাশয় এখন বালুর মাঠ, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পরিনত হয়েছে। এখনই শক্ত ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে জেলা শহর হবে জলাধারহীন এমন ধারণা করছেন পরিবেশ অধিদপ্তর।সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন কীর্তিনাশা নদীতে চলমান রয়েছে ডজন খানেক অবৈধ ড্রেজার। এছাড়াও ওই তহশিল অফিসের অধিক্ষেত্র মাহমুদপুর ও চন্দ্রপুর এলাকায় চলমান রয়েছে ৩০টির বেশী ড্রেজার। এর প্রতিটিতেই নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে জলাশয় ভরাট করছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে জলাধার ও জলাশয় ভড়াট করা। জলাধার এবং জলাশয় ভরাট করা জলাধার নিয়ন্ত্রণ আইন ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইন বিরোধী। জলাধার ও পুকুর ভরাটে নিরুৎসাহিত করে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাদের নোটিশ করা হয়েছে।জেলা শহরের বাসিন্দারা ধারণা করছেন, ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশ জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে অতিবৃষ্টি ও বর্ষার পানিতে শহর তলিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তণে ব্যপক প্রভাব ফেলছে।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কিলোমিটারের মধ্যেই এখন চলছে জলাধার ভারাটের প্রতিযোগিতা। জরাধার ভরাটের সাথে সম্পৃক্ত আবুল হোসেন হাওলাদার জানায়, আমাদের ভাই-বোনের সংখ্যা বেশী তাই প্রয়োজনেই আমাদের পুকুর ভরাট কাজ শুরু করি। প্রশাসনের বাধার মুখে এখন কাজ বন্ধ রয়েছে।
বিনোদপুর এলাকার এক অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী জানায়, সবকিছু ম্যানেজ করেই ভূমি অফিসের সীমানা থেকে বালু উঠাই।এই বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র জানায়, জলাশয় ভরাট হয়ে গেলে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। জলাশয় ভরাটকারীদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা দিয়ে থাকি। কিছুতেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ধানুকা এলাকার মনসা মন্দির সংলগ্ন পুকুর ভরাট শুরু করলে দুইবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করি। এরপরেও আবার ভরাটের চেষ্টা চালায়।
কিউএনবি/অনিমা/১০ অগাস্ট ২০২৩,/সন্ধ্যা ৬:৪৭