ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন
বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
Update Time :
বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০২৩
১৫৪
Time View
বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় ৫৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বুধবার সকাল ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অরুন মিয়া বলেন, স্ত্রী মরিয়ম বেগম ১৫ বছর আগে মারা যান। এরপর আর বিয়ে করিনি। ১৫ বছর ধরে চোখে দেখি না। টাইফয়েড জ্বর থেকে এমন হয়েছে। এলাকায় ভিক্ষা করে, হাত পেতে ও অন্যের থেকে সাহায্য নিয়ে চলতাম। আর এমপির অশ্রয়ন প্রকল্পে থাকতাম। জমিসহ নতুন ঘর পাইছি। প্রধানমন্ত্রী ও এমপি সাবরে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, বড় বোনের ফরিদা খাতুনের স্বামী আলাই মিয়া ২০ বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে বোন ও ভাগিনা লিটন মিয়াকে নিয়ে নতুন ঘরে থাকব।
বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গণে সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভূমি ও গৃহ হস্তান্তর উদ্ধোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জিয়াউল হক মীর, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম শেখ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সেলিম শেখ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের আমিরপাড়া গ্রামের দিনমজুর রাসেল মিয়া বলেন, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকতাম। ঠিকমতো ঘরভাড়া দিতে পারি না। ইটের নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। ১৫ বছর ধরে ইট নিয়ে কুমিল্লায় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছি।
মাহমুদা বেগম বলেন, আমার স্বামী সুলতান মিয়া রিকশা চালান। হার্টে সমস্যা, অসুস্থ। রিকশা চালাতে পারে না। শহরের ফুলবাড়িয়ায় ভাড়া থাকি। আড়আই হাজার টাকা ঘর ভাড়া দিতে প্রতি মাসে কষ্ট হয়। ঘরের ভাড়া দিতে পারতাম না। নতুন ঘর দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধাবঞ্চিত ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসন করার জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার ৫৮টি পরিবারকে ২ শতক জমিতে একটি সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ করে ক শ্রেণির ভূমিহীন ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা ৬ হাজার ১৪২টি। এরমধ্যে প্রথম পর্যায়, দ্বিতীয় পর্যায়, তৃতীয় পর্যায় ও চতুর্থ পর্যায়ে (১ম ধাপ) মোট ৫ হাজার ৯৫২টি ঘর উদ্বোধন করা হয়। বুধবার উদ্বোধন চতুর্থ পর্যায়ের দ্বিতীয় ধাপের ঘরসমূহের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ৫৮টি ও নবীনগর উপজেলার ৫২ টিসহ মোট ৮৪টি ঘর দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলার ৫৮ টি ঘরের মধ্যে ক শ্রেণির পরিবারের মধ্যে ২৫ পরিবারকে মজলিশপুর ইউনিয়নের আমিরপাড়ায় এবং ১২ টি পরিবারকে মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিনাইর গ্রামে ১৯৯৭ সালে নির্মিত লাখুনিয়া দিঘী আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাকের জীর্ণশীর্ণ ঘরের স্থলে ২১ টি একক গৃহ নির্মাণ করে পূর্ব থেকে বসবাসকারী এই পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ঘরের জমি হস্তান্তরের সময় প্রত্যেককে একটি করে গাছ উপহার দেন অতিথিরা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সেলিম শেখ ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, উপকারভোগীদের নিকট ঘরের চাবি ও দলিল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকল উপকারভোগী নির্মিত এই ঘরে বসবাস করবে। সমাজের মূলধারার মানুষের সঙ্গে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষসহ তৃতীয় লিঙ্গ, ভিক্ষুক, বেদেসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের জন্যও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নয়টি উপজেলায় নির্মিত হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ঘরগুলো।