বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নারী কর্মচারিকে অপহরণের প্রতিবাদ করায় কালের কণ্ঠের সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে মামলায় নাম থাকা পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও আখাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘দ্রুত বিচার আইনের মামলায় সাতদিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ি দ্রুত তদন্ত করে সোমবার অনলাইনে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চার্জশিটের যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হবে। মামলার এজাহারে থাকা পাঁচজনকে চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয়েছে।’
এদিকে ঘটনার মূল হোতা মো. সুমন মিয়া এখনো জেলহাজতে আছেন। আদালত তিনবার তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন। সর্বশেষ গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে তার জামিন প্রার্থণা করা হলে নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। সুমনের বাবা মো. মাহফুজ মিয়া বয়স ও শারিরিক অসুস্থতা বিবেচনায় জামিন পান। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন। ২৮ জুলাই আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরের কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের ভিজিট চাওয়ায় এক কর্মচারীকে অপহরণ করার চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধির উপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরো অন্তত পাঁচজন আহত হয়। এ ঘটনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আশীষ সাহা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামী করে আখাউড়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ পৌর এলাকার দেবগ্রামের (বরিশলের সাবেক বাসিন্দা) মাহফুজ মিয়া ও তার ছেলে সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও বাকি আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে রবিবার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা নাগাদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কর্মবিরতি পালন করা হয়। বেলা তিনটার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাধানগর চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এছাড়া সুধী সমাজ ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
কিউএনবি/আয়শা/৮ অগাস্ট ২০২৩,/রাত ১১:১৪