বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, সাবেক স্বামীর ফাঁসির দণ্ড

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০২৩
  • ১৫৩ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় তালাক দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় রাসেল মিয়া (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার (০৭ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ বেগম শারমিন নিগার এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তাকে আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল জেলার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বিষ্ণুপুরের আবু তাহেরের ছেলে৷ এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম। আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে কুটি ইউনিয়নের রামপুরের কুদ্দুস মিয়ার ছোট মেয়ে সুমা আক্তার (২৫) কে রাসেল মিয়ার কাছে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় অটোরিকশা সহ প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার মালামাল ও এক ভড়ি ওজনের সোনার চেইন দেওয়া হয়। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।

রাসেল বিভিন্ন সময় সুমাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। তাদের দুজনের মধ্যে নানান সময়ে মনোমালিন্য চলে আসলে সুমা বাবার বাড়িতে চলে যায়।  ২০১৫ সালের ৩১ মে রাসেলকে তালাক প্রদান করে সুমা। এরপর থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল রাসেল। ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর সন্ধ্যার পর নিজ বাবার বাড়িতে খাওয়া দাওয়া করে একঘর থেকে আরেক ঘরে যাওয়ার সময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা রাসেল এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সুমাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুমাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তবে মারা যাওয়ার আগে সুমা হামলাকারী হিসেবে রাসেলের নাম বলে যায়।

এই ঘটনার পরদিন সুমার বাবা বাদি হয়ে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল হোসেন দুই মাসের মাথায় একই বছর ডিসেম্বরে রাসেলকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুমা তালাক দেওয়ায ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল তাকে হত্যা করেন। সকল সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে  সোমবার (৭ আগস্ট)  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ শারমিন নিগার রাসেলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে রাসেল পলাতক থাকায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছাড়া আসামী পক্ষের নিয়োজিত কোন আইনজীবী কেউ ছিল না।

কিউএনবি/আয়শা/৭ অগাস্ট ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit