আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন সাপোর্ট থেকে বের করে আনা হয়েছে। তার শারীরিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।
আজ সোমবার (৩১ জুলাই) সকালে বুদ্ধদেবের সিটি স্ক্যান করানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, বুদ্ধদেবের শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল।
মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, বুদ্ধদেবের রক্তে সিআরপির পরিমাণ কমেছে। অর্থাৎ রক্তে সংক্রমণের মাত্রা আগের তুলনায় কম। যদিও এখনও তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আগে তার সিআরপি ছিল ৩০০, সেটাই কমে ১৫০-এর কাছাকাছি এসেছে, যা চিকিৎসকদের কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রেখেছে।
বুদ্ধদেবের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা আগের চেয়ে বাড়িয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। এরপরেই তাকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন থেকে বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে তাকে বাইপ্যাপ সাপোর্টে রাখা হবে। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
এদিকে বুদ্ধদেবের স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না চিকিৎসকরা। এখনও তার সংকট পুরোপুরি কাটেনি। আজ সকালে হওয়া সিটি স্ক্যানের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বুদ্ধদেবের শারীরিক পরিস্থিতির সাংঘাতিক অবনতি হয়নি। তবে সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে, এমনও বলা যাচ্ছে না।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বুদ্ধদেবের দুটি ফুসফুসই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আগে থেকেই ফুসফুস দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ফলে লাং ফাইব্রোসিস হয়েছে তার।
গতকাল বুদ্ধদেবকে দেখে গিয়েছিলেন হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ সরোজ মণ্ডল। ইকো কার্ডিয়োগ্রাম করান চিকিৎসক ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার রিপোর্ট ভালো উল্লেখ করে চিকিৎসক কৌশিক চক্রবর্তী বলেন, বুদ্ধদেবের ফুসফুসের অবস্থা খারাপ থাকলেও উনি লড়ে যাচ্ছেন। শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইনসুলিন দেওয়া হচ্ছে। রাইলস টিউবের মাধ্যমে খাবার পাচ্ছেন তিনি। কোনও সমস্যা ছাড়াই তার খাদ্যনালী দিয়ে খাবার শরীরে ঢুকছে। এটা ভালো লক্ষণ।
চিকিৎসক আরও জানান, আচ্ছন্ন করে রাখার প্রক্রিয়া কমিয়ে দেওয়ার ফলে বুদ্ধদেব শুনতে পাচ্ছেন, বুঝতে পারছেন। চিকিৎসকরা ডাকলে সাড়াও দিচ্ছেন। কখনও কখনও ইশারার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বোঝানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
দীর্ঘ দিন ধরেই সিওপিডির সমস্যায় ভুগছেন বুদ্ধদেব। তার পরিবার জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে জ্বর আসছিল বুদ্ধদেবের। শুক্রবার শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। শনিবার তিনি ক্রমশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। ওই দিনই তাকে আলিপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। যন্ত্রের সাহায্য চলছিল তার শারীরিক প্রক্রিয়া।
কিউএনবি/অনিমা/৩১ জুলাই ২০২৩,/রাত ৮:৪২