ডেস্ক নিউজ : গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোর্ডের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক বেতন ও ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পৌর এলাকার অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড কলেজের ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পরে শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
এর আগে ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীরা বিধিবর্হিভূতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করায় দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংসদ, শিক্ষা সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, জেলা প্রশাশক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বেতন ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে বেতন আদায় করছেন। ইতোমধ্যে পাঁচ মাসের বেতন অতিরিক্ত নিয়েছেন এবং আরও তিন মাসের বেতন দাবি করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ আট মাসের বেতন বাধ্যতামূলকভাবে ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বোর্ড কর্তৃক এইচএসসি পরীক্ষার জন্য মানবিক বিভাগের ফরম পূরণের জন্য ২১২০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২৬৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬৫০০ টাকা আদায় করে নিয়েছেন। তবে ফরম পূরণের টাকার কোনো রসিদ দেয়নি শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগে বলেন, অধ্যক্ষ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে অধ্যক্ষের ছেলে কলেজের শিক্ষক আমাদের প্রবেশপত্র দেবে না এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম একাডেমি অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ফরম পূরণের জন্য ঢাকা বোর্ডের নির্ধারিত টাকা নিচ্ছি। অতিরিক্ত টাকা উন্নয়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। জুলাই-২০২১ থেকে জুন-২০২২ পর্যন্ত আট মাসের বেতন সরকারি নির্দেশনার বাইরে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিনা রসিদে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর রসিদ প্রয়োজন হয় না তাই দেই না।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য কলেজে ফরম ফিলাপের জন্য আরও বেশি টাকা নিচ্ছে এবং তার ছেলে কর্তৃক হুমকির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন- এমনটি হতে পারে না।
শ্রীপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন জানান, এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমিন বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে আমাদের নজরে এসেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৯ জুলাই ২০২৩,/রাত ১২:১৪