আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ধর্ষণের পর দুই নারীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ঘোরানোর ভিডিওর প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে ‘নৃশংস’ ও ‘ভয়ংকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায় নি নয়াদিল্লি।
সোমবার (২৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী ওই দুই নারীর ওপর নৃশংস এই নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছিল তিন মাস আগে । কিন্তু গত সপ্তাহে ভিডিওটি প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
চলতি মাসের প্রথম দিকে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি মনিপুরে চলমান সংকট সমাধানে তার দেশ ‘ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত’ রয়েছে বলে জানালে ওই মন্তব্যের দ্রুত জবাব দেয় ভারতীয় সরকার।
তখন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটির করা মন্তব্য দেখেন নি। তবে বিদেশী কূটনীতিকরা সাধারণত ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন’সম্পর্কে মন্তব্য করেন না।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার( ২০ জুলাই) প্রকাশিত মনিপুরের ভিডিওতে দেখা যায় , মেইতি অধ্যুষিত স্থানীয় একটি গ্রামের রাস্তায় সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক কুকি গোষ্ঠীর বিবস্ত্র দুই নারীকে চারপাশ থেকে ধাক্কা দিচ্ছে জনতা।
এ ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয় এবং নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতিত ওই দুই নারীর একজনকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, ওই সময় তৃতীয় আরও এক নারীকেও বিবস্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে না।
তবে এ ঘটনার অভিযোগ নিতে পুলিশ কেন এত বিলম্ব করলো , তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জানা যায়, ঘটনার কয়েক দিন পর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং ফুটেজে অনেক পুরুষকেই স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়।
প্রসঙ্গ গত মে থেকে মনিপুরের জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজ্যটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংখ্যালঘু কুকিদের মধ্যকার চলমান সংঘর্ষ সহিংসতায় রূপ নিলে রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সহিংসতায় ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৬০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/৩১ জুলাই ২০২৩,/রাত ১১:২১