স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : যশোরের মনিরামপুরে রোহিতা ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাস্তা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু দখল করেই তিনি ক্ষ্যান্ত হননি।দখলের পর ইট কাটাতার ও নেট দিয়ে ঘিরে রাখার পর স্কেভেটর মেশিন দিয়ে রাস্তার মাটি পর্যন্ত কেটে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এ সময় এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পুলিশ এসে মাটি কাটা বন্ধ করে দেয়। আর এ ঘটনাটি ঘঠেছে গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে রোহিতা বাজারের উত্তর মাথায়।বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোস বিরাজ করছে।
জানাযায়, রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনের ছোটভাই আমেরিকা প্রবাসী হারুন অর রশিদ স্থানীয় রোহিতা বাজারের উত্তরপাশে সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ছোটভাই মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে ২০১৬ সালে ৯ শতক জমি ক্রয় করেন। ২০১৬ সালের ১৩ জুন তারিখে কোদলাপাড়া মৌজার হাল ২০০৮ দাগের ওই নয় শতক জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে জমি রেজিষ্ট্রির সাত বছর পর হারুন অর রশিদের ভাই ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে লোকজন নিয়ে ওই জমিসহ পাশের ইটের সোলিংয়ের রাস্তাটি দখল করেন।
এ সময় রাস্তার পাশে থাকা আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তির একটি দোকানঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে দখলের পর ইট, কাটাতার ও নেট দিয়ে রাস্তার চারপাশসহ মুখ ঘিরে রাখেন। ফলে শুক্রবার থেকে পাশের কয়েকটি পরিবারের লোকজনের যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। রাস্তা ঘিরে রাখায় তারা মূলত বাড়ির মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। রাস্তা ঘিরে রেখেই চেয়ারম্যান ক্ষ্যান্ত হননি। গতকাল শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন উপস্থিত থেকে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে ওই রাস্তা থেকে মাটি কাটা শুরু করেন। এসময় এলাকাবাসী বাধা দিলেও কোন কর্নপাত করেননি চেয়ারম্যান।
এক পর্যায়ে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে মাটিকাটা বন্ধ করে দেন। তবে রাস্তাটি অবমুক্ত করা হয়নি। ভূক্তভোগী কওসার আলী, মতিয়ার রহমান, পল্লী চিকিৎসক আতাউর রহমান, জাহান আলী, শামিম হোসেনসহ আশপাশের লোকজন জানান, তারা দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান তাদের যাতায়াতের একমাত্র ওই রাস্তাটি দখলের পর ঘিরে রাখায় তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন জানান, তার ভাইয়ের ক্রয়কৃত জমি (রাস্তাসহ) তিনি দখল করেছেন।
তবে পাশের জমি ওয়ালা সায়ফুল ইসলাম, মাহাবুব হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনের ভাইয়ের রেজিষ্ট্রিকৃত নয় শতক জমির দলিলের নকশায় উল্লেখ রয়েছে দৈর্ঘ্য ৩২ ফুট এবং প্রস্থ ১২৭ ফুট। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন দৈর্ঘ্য ৩২ ফুটের পরিবর্তে ৫৪ ফুট এবং প্রস্থ ১২৭ ফুটের পরিবর্তে ৮০ ফুটসহ পাশের ইটের সোলিংয়ের রাস্তাটি দখল করেন। মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দখলকৃত ওই রাস্তার মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ জুলাই ২০২৩,/রাত ৮:৩৩