স্পোর্টস ডেস্ক : জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার জার্মান ফুটবলের পতনের জন্য দায়ী করেছেন স্প্যানিশ কিংবদন্তি কোচ পেপ গার্দিওলাকে। ম্যানচেস্টার সিটিকে সবশেষ মৌসুমে ট্রেবল জেতানো কোচ নাকি বায়ার্ন মিউনিখের কোচ থাকাকালীন সময়ে জার্মান ফুটবলের ভিত নাড়িয়ে দিয়ে গেছেন।
২০১৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন পেপ গার্দিওলা। এরপর বায়ার্ন ছাড়ার আগে ব্যাভেরিয়ান ক্লাবটিকে জেতান ৭টি শিরোপা। ২০১৬ সালে প্রিমিয়ার লিগের দল ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়ে সম্ভাব্য সকল শিরোপাই জিতিয়েছেন ক্লাবটিকে। সবশেষ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাসহ ট্রেবল জিতে ইতিহাস গড়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ। অথচ সেই কিংবদন্তি কোচকে কাঠগড়ায় তুলছেন সাবেক শিষ্য। ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক শোয়েইনি বলেছেন, গার্দিওলার কৌশলের কারণেই স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে ধুকছে জার্মান ফুটবল।
জার্মানি ফুটবল দল। ছবি: ইএসপিএন
গত কয়েক বছরে জার্মানির ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায় গার্দিওলার ওপর চাপিয়ে শোয়েইনস্টেইগার বলেন, ‘যখন পেপ গার্দিওলা বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্ব নিয়ে এ দেশে আসেন, তখন সবাই বিষয়টা বুঝতে পেরেছিল। সবাই বুঝেছিল যে আমাদেরকেও এখন শর্ট পাস এবং তেমন (গার্দিওলার স্টাইলের) ফুটবল খেলতে হবে। এর ফলে ব্যাপারটা এমন হলো যে আমরা নিজেদের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেললাম।’
জার্মানি ফুটবল দলের পরিচিতি লড়াকু মানসিকতার জন্য। হারার আগে হার না মানার মানসিকতাই তাদের জয়ের রহস্য। অথচ সেই জার্মানি লম্বা সময় ধরে জিততেই ভুলে গেছে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বও পার হতে পারেনি দলটা। সর্বশেষ ১৫ ম্যাচে মাত্র ৩টিতে জয় পেয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কাতার বিশ্বকাপের পর তো ৫ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র ১টিতে। সেই জয়ও খর্ব শক্তির পেরুর বিপক্ষে। এই জার্মান কিংবদন্তি মনে করেন, লড়াকু মানসিকতা হারিয়ে ফেলাতেই ধুকছে জার্মানি।
শোয়েইনস্টেইগার বলেন, ‘আমার মনে হয়, বেশির ভাগ দেশ জার্মানিকে দেখে লড়াকু হিসেবে। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারি। কিন্তু গত সাত–আট বছরে আমরা নিজেদের সেই শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। আমরা সব ভুলে গেলাম এবং নিজেদের মধ্যে সুন্দরভাবে বল দেওয়া–নেওয়ায় মনোযোগী হয়ে পড়লাম। এটা একটা কারণ।’
অবশ্য শোয়েইনির কথার বিরোধিতা করতে পারেন গার্দিওলার সমর্থকরা। জার্মানি যখন বিশ্বকাপ জেতে তখন বায়ার্নের কোচের দায়িত্বে ছিলেন গার্দিওলাই। এরপর ২০১৬ সালে তিনি বায়ার্ন ছাড়ার পর দুটি বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি। বার্সেলোনার সাবেক কোচ বিদায়ের পর পেরিয়ে গেছে আরও ৬ বছর। কেউ চাইলে তাই প্রশ্ন তুলে বলতেই পারেন যে এত লম্বা সময় পেয়েও কেন নিজেদের ফুটবলকে সঠিক পথে আনতে পারছে না জার্মানি? তবে কি সমস্যা অন্য কোথাও!