ডেস্ক নিউজ : বুধবার (০৫ জুলাই) উপজেলার বৈরাতিহাটে এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৈরাতিহাটের পশুহাট সংলগ্ন ৪টি শেড দীর্ঘদিন আগে নির্মিত হয়েছে। শেডগুলোতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করতো। সেখানে বিভিন্ন কুঠির শিল্পের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় হতো নিয়মিত। বুধবার সকালে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শ্রমিক লাগিয়ে শেডগুলো ভেঙে ফেলেন।
এসময় বৈরাতিহাট ইজারাদারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। শেডগুলো ভেঙে ফেলায় ফুঁসে ওঠে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির লোকজন। তারা শেডগুলো ভেঙে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলেন। শেড ভেঙে ফেলার বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযোগ করেন রংপুর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈরাতিহাটের কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, শেডগুলোতে বাঁশের তৈরি নানা দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা হতো। শেডগুলো ভেঙে ফেলার কারণে আমরা ব্যবসা করতে পারব না।
বৈরাতিহাট ইজারাদার রেমাউল হক মোবাইলে সময় সংবাদকে বলেন, পশুহাটের জায়গা না হওয়ার কারণে আমরা শেডগুলো ভেঙে ফেলার আবেদন করি মে মাসের ১৫ তারিখে। পরে ইউএনও স্যার গত তিন-চারদিন আগে মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। একারণে শেডগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। মৌখিক আবেদনে সরকারি শেড ভাঙা যায় কিনা এমন প্রশ্নে ইজারাদার আরও বলেন, এ কাজটি ঠিক হয়নি। লিখিত কাগজ নিয়ে আমাদের সেডটি ভাঙা উচিৎ ছিল। তবে এ কাজের সঙ্গে শুধু আমি না চেয়ারম্যানও জড়িত ছিল।
মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোবাইলে সময় সংবাদকে বলেন, ইউএনও স্যার বৈরাতিহাট পরিদর্শন করে সম্মতি দিয়েছিলেন শেডগুলো ভেঙে ফেলতে। একারণে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে তারই নির্দেশে কাজ বন্ধ করে ভেঙে ফেলা শেডগুলোর ইট আমার জিম্মায় রেখে দিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান মোবাইলে সময় সংবাদেক বলেন, সরকারি শেডটি নিয়ে কিছুদিন থেকেই একটু ঝামেলা ছিল। হাটের সমস্যা সমাধানে আমরা শেডটি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শেডগুলো ভেঙে ফেলা নিয়ে স্থানীয়ভাবে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একারণে কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাদের নিয়ে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/০৬ জুলাই ২০২৩,/রাত ৮:৪০