রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২০ পূর্বাহ্ন

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা আটক

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ জুলাই, ২০২৩
  • ৩৮১ Time View

খোরশেদ আলম বাবুল  শরীয়তপুর প্রতিনিধি : মা ও মেয়েকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করে আসছে এক পাষন্ড পিতা। নির্যাতন সইতে না পেরে অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছে ধর্ষিতা ও তার মা। এই অভিযোগে পাষন্ড পিতাকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। ধর্ষিতা, তার মা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসারের ভাস্কর্দি এলাকার আলমগীর মোল্যা (৫৫)।

তিনি ৩ স্ত্রী, ৯ সন্তান, ২ পুত্রবধু ও ২ নাতি-নাতনি সহ ১৭ সদস্যের যৌথ পরিবার নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে সুন্দরী হওয়ায় নরপিচাস বাবার লোলপ দৃষ্টি পড়ে মেরে প্রতি। এক পর্যায়ে মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষন করে বাবা আলমগীর। বিষয়টি মেয়ে তার মাকে জানানোর পর প্রতিবাদ করলে মেয়ে ও মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছেন। ধর্ষণে লিপ্ত না হলে মা ও মেয়েকে নির্যাতন করা হত। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবার মুখ খুলেছেন মা ও মেয়ে।

ধর্ষিতা কন্যা শিশু জানায়, পিতার যৌন লালসার শিকার হয় সে। ২ বছর পূর্বে মেয়ে ও তার মাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কন্যা শিশুটিকে ধর্ষণ করে এই ধর্ষক। সেই থেকে বিভিন্ন উপায়ে তাকে ধর্ষণ করা হত। ধর্ষক পিতার হাত থেকে রক্ষার জন্য মেয়ের বিয়ে ঠিক করে মা। সেই বিয়েও ভেঙ্গে দেয় এই পিতা। মেয়েটির পড়া লেখা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নারায়নগঞ্জের আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করার পর মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে ফতুল্লা থানায় পিতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে।

মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পুলিশ তার মাকে নিয়ে যেতে বলে। অপরদিকে ধর্ষক পিতা তার মাকে বন্ধি করে রাখায় থানায় মা উপস্থিত হতে না পারায় অভিযোগ গ্রহণ করেনি থানা কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে ঘর বন্ধিও করা হয় মা ও মেয়েকে। ঘরে স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা। পাষবিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মা-মেয়ে পালিয়ে এসে বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মী ও সমাজে প্রকাশ করে। ধর্ষিতা শিশুর মা জানায়, প্রতিদিন মেয়েকে তার স্বামীর ঘরে পাঠাতে বলে। না পাঠালে মা-মেয়েকে নির্যাতন করা হয়।

কারনে অকারনে তাদের মারধর করা হয়। কারো কাছে মুখ খুললে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। মা হয়ে পিতার কাছে কিভাবে মেয়েকে পাঠাই। আর সহ্য করতে পারছি না। এই ধর্ষকের ফাঁসি দাবী করেছে মা ও মেয়ে। স্থানীয়রা জানায়, অনেক দিন ধরে এই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এক পর্যায়ে ভিকটিম ও তার মা বিষয়টি প্রকাশ করে সামাজিক সহায়তা চেয়েছে। ধর্ষক পিতা জানায়, সে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শিকার। এই ধরনের কর্মকান্ডের সাথে সে জড়িত না। এলাকার লোকজন তাদের (স্ত্রী-সন্তান) দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছে।

এই বিষয়ে পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, এই নেক্কারজনক ঘটননাটি জানতে পেরে পুলিশ পাঠিয়ে প্রথমে অভিযুক্ত পিতা আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমদের থানায় আসতে খবর পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ জুলাই ২০২৩,/রাত ১২:২১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit