বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন

দুর্গাপুরে অন্যরকম ঈদ উদযাপন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩০ জুন, ২০২৩
  • ২৬১ Time View

তোবারক হোসেন খোকন, দুর্গাপুর(নেত্রকোনা) : নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রতিবছরের মতো এবারও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে কোরবানির গোশত বিলিয়ে দিয়ে অন্যরকম ঈদ পালন করলো পৌরশহরের সাধুপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদ ভিত্তিক মুসলিম সমাজ। এবার ওই এলাকার ১৬৬টি পরিবারের মধ্যে এ গোশত বিলিয়ে দেয়া হয়। শুক্রবার (০৩ জুন) বিকেল পর্যন্তও ওই এলাকায় যারা কোরবানি দিতে পারেননি বা লোক লজ্জার কারনে কারো বাড়িতে বা অন্য কোথাও গোশত আনতে যেতে পারেননি এ ধরনের পরিবার গুলোর তালিকা করা হয় আগ থেকেই। আবার কারো কারো বাড়িতে চুপিসারে গিয়ে পৌঁছে দেয়া হয় কোরবানির গোশত।

কোরবানি ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই চলতে থাকে তালিকা তৈরীর কাজ। পরে ঈদের দিন নামাজ শেষে ওই এলাকার বিত্তশালীগন নিজ নিজ কোরবানি শেষ হওয়ার সাথে সাথে পৌরশহরের সাধুপাড়া এলাকার বাইতুল মামুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে ওই কাজে নিয়োজিত যুবদের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন কোরবানি না করতে পারা মানুষদের জন্য গোশত। পরে সকল গোশত একত্রে করে শুরু হয় প্যাকেট করা। নির্ধারিত তালিকা মোতাবেক চলে বিতরণ। কোন কোন সময় ঈদের দিন সকল বিতরণ করা সম্ভব না হলেও ঈদের পরের দিন ওই গোশত বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌছে দেন নির্ধারিত যুবকগন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোশত নিতে আসা একজন বলেন, আমি শরিকের মাধ্যমে কুরবানি দিতাম কিন্ত গত দু‘বছর হলো ব্যবসা করতে গিয়ে টাকা নস্ট করে ফেলায় আর কুরবানি দেয়া হয় না। কারো কাছে গোশত চাইতে যেতেও পারি না লোক লজ্জার ভয়ে। কুরবানি ঈদের দিন বাড়ি থেকে বের হইনা। ওই কথা ভেবে লোকচুক্ষুর আড়ালেই সাধুপাড়া সমাজের মানুষ এবারও আমার বাড়িতে কুরবানির গোশত পাঠিয়ে দিয়েছে। এ যেনো এক অন্যরকম আনন্দ উপভোগ করছি আমি।

এ সময় উদ্যোক্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে আমাদের পরিবারের মাধ্যমেই শুরু করেছিলাম এ কাজ। পরবর্তিতে ২০১৬ সন থেকে সাধুপাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদ উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে সামাজিক ভাবেই এ কাজ শুরু করে ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে বিলিয়ে দেই।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ২০১৬ সাল থেকে সাধুপাড়া সমাজের মাধ্যমে শুরু করেছি এই কাজ। এ সময় সমাজের সকল যুবকরাই সহায়তা করে থাকে। ঈদের নামাজ শেষে কুরবানি করে সমাজে কুরবানি দিতে না পারা এমন পরিবারে গোশত বন্টনের কাজ শুরু করি। প্রতি বছরের মতো এবারও ১৭২ পরিবারের মধ্যে দেয়া হয়েছে এ গোশত। এধরনে কাজ উপজেলার সকল এলাকায় শুরু হলে ঈদ আনন্দ পুনাঙ্গতা পাবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রভাষক মাহবুবুল আলম, আব্দুল লতিফ তালুকদার, আব্দুল মতিন ফকির, হাফিজ উদ্দিন সৈয়াল, মো. আমজাদ হোসেন, মো. ফজলুল হক প্রমুখ।

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯ জুন ২০২৩,/রাত ১০:১৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit