বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

ছিনতাইয়ের মামলা করায় তিরস্কার আদালতের এবার মন্ত্রীর কাছে বাদীর অভিযোগ

বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।    
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩
  • ১৭৫ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইফরান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘ছিনতাইয়ের অভিযোগে’ মামলা করায় বাদী ও তার আইনজীবীকে তিরস্কার করেছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলাটি খারিজেরও আদেশ দিয়েছেন। 

এদিকে উপায়ন্তু না দেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মোবাইল ফোন খোয়ানো মো. আশিকুর রহমান। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আশিকুরের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি ইউএনও’র স্ত্রীর কাছে ছিলো। তিনি মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে মন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন। 

গত ২১ ডিসেম্বর ছিনতাইকারির কবলে পড়ে মোবাইল ফোন খুইয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মো. আশিকুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি আশুগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়রি করেন। পুলিশ তদন্তে বেরিয়ে আসে ওই মোবাইল ফোনটিতে ব্যবহৃত হচ্ছে জেলার বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ ইফরান উদ্দিন আহমেদের নামে  সিমকার্ড। এদিকে আশিকুর রহমান বাদী হয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসমা জাহান নিপা এক আদেশে উল্লেখ করেন, ইউএনও’র পরিচয় গোপন করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আদালতের অনুমতি ছাড়া ২-৩ আসামীর নাম অন্তভর্‚ক্ত করেন এবং এনআইডি নম্বরে ওভার রাইটিং। ইউএনও প্রজাতন্ত্রের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। এ নালিশ গ্রহনের কোনো যুক্তিসংগত হেতু না থাকায় নালিশটি ২০৩ ধারায় খারিজ করা হলো। বাদী ও বাদী পক্ষে কৌসুলিকে মামলা দেওয়ায় তিরস্কার করা হলো। 

এর আগে আশুগঞ্জের সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আশিকুর রহমান তার মামলায় ও এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিযোগ করেন, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু শামার একটি ইটভাটার সামনে থেকে তার স্যামসাং ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিস ছিনতাই হয়। তবে ছিনতাই মামলা পুলিশ নিতে চাইবে না বলে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১৯ ফেব্রয়ারি আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

বিষয়টি তদন্ত করেন আশুগঞ্জ থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান। পুলিশের তদন্তে মুঠোফোন ব্যবহারকারী হিসেবে আসামীর নাম হিসেবে ইরফান উদ্দিনের (ইউএনও) নাম আসে। আমিও বিষয়টি নিশ্চিত হই। অফিস কর্মচারি ফয়সাল ফোনটি দিবে দিবে করে দেয়নি। উল্টো ফোনের কাগজপত্র দেওয়াসহ নানা কথা বলতে থাকেন। এ অবস্থায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউএনওকে আসামী করা হয়। 

এদিকে মঙ্গলবার মন্ত্রীর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আশিকুরের মোবাইল ফোনটি জিডির তদন্তকারি কর্মকর্তা তদন্ত করে ইউএনও’র স্ত্রীর কাছে মোবাইল ফোনটি পান। তবে পুলিশ ফোনটি উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়া তিনি আদালতে মামলা করেন। মোবাইল ফোনটি উদ্ধারসহ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

বিষয়টির ব্যাখা দিয়ে ইউএনও ইফরান উদ্দিন বলেন, ‘এটি আমার জন্য একটা শিক্ষা। মোবাইল ফোনটি মুলত আমার অফিসের কর্মচারি জালাল ভৈরব থেকে কিনে আনে। তাকে যে সিমটি দেই সেটি আমার নামে নিবন্ধিত। মূলত জালাল তার নামে সিম তুলতে পারছিলো না বলে যোগাযোগ রক্ষায় তাকে আমরটা দিয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে আশিকুর রহমান অনেক মিথ্যাচার করেছেন।’

কিউএনবি/আয়শা/৩০ মে ২০২৩,/রাত ৯:০৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit