বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া অধ্যক্ষ মাস্তোব আলী পারিবারিকভাবে সুখী ছিলেন না। তিনি অনেক ঋণগ্রস্থ হলেও স্ত্রী বিলকিস খাতুন বিলাসী জীবন যাপন করতেন, ছেলে আহম্মেদ ওয়াজিহ ওয়াসিফ মাদক সেবন করতেন। মা ও ছেলে দু’জন টাকার জন্য মাস্তোব আলীকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। মাস্তোব আলী মূলত আর্থিক চাপের কারণে এবং স্ত্রী, সন্তান ও পাওনাদারের প্ররোচণায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন- এমনই অভিযোগ এনেছেন মাস্তোব আলীর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। শনিবার রাত ১২টার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি এ অভিযোগ আনেন। মামলায় মোস্তাব আলীর স্ত্রী, ছেলে ও পাওনাদার তাঁরই চাচাতো ভাই রায়েজুল ইসলাম ওরফে রাজুকে আসামী করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার বাসিন্দা মোস্তাফ আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ১০ মে সকাল নয়টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটুরার ২ নম্বর লোকেশনের আবাসিক এলাকার বাসার শৌচাগার থেকে মোস্তাব আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দেড় থেকে দুই বছর আগে রায়েজুলের কাছ থেকে সুদ হিসেবে ছয় লাখ টাকা ঋণ করেন অধ্যক্ষ মোস্তাব আলী। সুদের কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য রায়েজুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অধ্যক্ষের কাছে আসা-যাওয়া করতেন। সুদের কিস্তি দিতে দেরি হলে তিনি অধ্যক্ষকে মানসিকভাবে অপমান অপদস্থ করতেন। অপরদিকে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে অধ্যক্ষের পারিবারিক কলহ হতো। তারা বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দিয়ে নাজেহাল করাসহ আত্মহত্যা করার জন্য অধ্যক্ষকে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলতন। স্ত্রী-সন্তানের অপমানজনক কথাবার্তায় তিনি প্রায়ই বাসায় সকালের নাস্তা ও অনেক সময় দুপুরের খাবার খেতেন না। অধ্যক্ষ ঋণগ্রস্থ হওয়া সত্তে¡ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান বিলাসি জীবনযাপন করতেন। অধ্যক্ষের ছেলে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। টাকার জন্য অধ্যক্ষকে চাপ সৃষ্টি করত ছেলে। প্রতিবাদ করলেই স্ত্রী-সন্তানের লাঞ্ছনার শিকার হতেন তিনি। তারা প্রায়ই অধ্যক্ষকে বিষ খেয়ে বা ফাঁসি দিয়ে মরে যেতে বলতেন। গত ১০ মে সকালে অধ্যক্ষের কর্মস্থলে পৌঁছে মুঠোফোনে সুদের টাকা চান রায়েজুল। এতে মানসিকভাবে উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েন অধ্যক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের অপমানজনক ও অশোভন আচরণে এবং সুদের টাকাকে কেন্দ্র করে পাওনাদারের কটুক্তিসহ অপমানজনক কথাবার্তায় লজ্জা ও ঘৃণায় অধ্যক্ষ শৌচাগারের ঝর্ণার পাইপের সঙ্গে গলায় পায়জামার রশি (নিয়ার) পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।অধ্যক্ষের ভাতিজা আসিফ বিন আলী সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘চাচা কলেজের অধ্যক্ষ থাকলেও পারিবারিকভাবে সুখী ছিলেন না। ঋণে জর্জরিত ছিলেন। কলেজ থেকে পাওয়া বেতরনের পুরো টাকা তিনি ঋণের কিস্তি হিসেবে দিয়ে দিতেন।’মামলার বাদী অধ্যক্ষের ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমার ভাই আত্মহত্যা করার মতো মানুষ ছিলেন না। তাঁর মৃত্যুর পেছনের কারণ উদ্ঘাটন করার জন্য পুলিশের অনুরোধ রইল। স্ত্রী-সন্তান তাঁকে (মোস্তাব আলী) মানসিক নির্যাতন করতেন। স্ত্রী-সন্তান ও পাওনাদার তাঁর ভাইকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন।’সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, অধ্যক্ষের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর ভাই আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে ছেলে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।