ডেস্ক নিউজ : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের রায় ফের পিছিয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় দফা পেছানো হলো রায়ের তারিখ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মনোনয়ন সংগ্রহের আগে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করায় রিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় মঙ্গলবার রায়ের তারিখ পেছানো হয়। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ’র হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৪ মে রায়ের তারিখ রাখেন।
আদালতে জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম কে রহমান, বেলায়য়েত হোসেন ও মশিউর রহমান সবুজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন বলেন, জাহাঙ্গীর আলম গত ২৬ এপ্রিল গাজিপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন তিনি আর পদে নেই। যদি রুল মঞ্জুর হলেও তিনি আর পদে ফিরতে পারবেন না। সুতরাং এই রিট আর চলে না। রুলটি অকার্যকর হয়ে গেছে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের এ বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবী এম কে রহমান বলেন, এই রিটে পদত্যাগটা ইস্যু না। ইস্যু হচ্ছে তাকে বরখাস্ত করা। আদালতের কাছে ইস্যু হলো সেই বরখাস্তটা আইন সম্মত হয়েছে কিনা। পরবর্তীতে কি হয়েছে না হয়েছে সেটা এখানে (এই রিটে) আসবে না। রিটটি অকার্যকরও হবে না। এরপর আদালত রিটের কার্যকারিতা নিয়ে উভয় পক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় দেখে আসতে আসতে বলে রায়ের তারিখ তৃতীয় দফা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে ২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। এর এক সপ্তাহের মাথায় ভুয়া দরপত্র, দরপত্রে ও বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অভিযোগে ২৫ নভেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাহাঙ্গীর আলম গত বছর ১৪ আগস্ট জাহাঙ্গীর আলম হাইকোর্টে রিট করলে প্রাথমিক শুনানির পর ২৩ আগস্ট রুল দেন। তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। গত ১৫ মার্চ এ রুলের শুনানি শুরু হয়। পরে ২৮ মার্চ শুনানির পর ৩০ মার্চ রায়ের তারিখ রাখেন হাইকোর্ট।
ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে একটি আবেদন করে সময় চায়। আদালত আবেদন গ্রহণ করে ৪ এপ্রিল রায়ের তারিখ দেন। ওই দিনও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে রায়ের দিন পিছিয়ে ২ মে তারিখ রাখেন আদালত। এর মধ্যে গত ৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হওয়ার কথা। অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল গত ২৭ এপ্রিল। আর মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন ছিল গত ৩০ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ দিন আগামী ৮ মে। প্রতীক বরাদ্দ তারিখ ৯ মে রাখা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জাহাঙ্গীর আলম। তবে বাছাই শেষে ঋণ খেলাপের অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
কিউএনবি/আয়শা/০২ মে ২০২৩,/সন্ধ্যা ৭:৩৪