সৌদি আরবে পারিবারিক মেলবন্ধনের অন্যতম উপলক্ষ ইফতার। এ সময় পরিবার প্রধানের বাড়িতে মিলিত হয় সব বয়সীরা। সাধারণত পরিবারগুলোর মধ্যে দুই পর্যায়ে ইফতারের রীতি আছে। প্রথমে শুধু গাহওয়া (আরবি কফি) ও খেজুর খাওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর মূল পর্ব শুরু হয়।
ডেস্ক নিউজ : পবিত্র রমজান মাসে সন্ধ্যায় ইফতার করেন রোজাদাররা। ইফতারসামগ্রী ঘিরে আছে একেক দেশের একেক ঐতিহ্য। বিশ্বজুড়ে খাবারের নান্দনিকতা রমজানকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়। সৌদি আরবে ইফতারের ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
সৌদি আরবে পারিবারিক মেলবন্ধনের অন্যতম উপলক্ষ ইফতার। এ সময় পরিবার প্রধানের বাড়িতে মিলিত হয় সব বয়সীরা। সাধারণত পরিবারগুলোর মধ্যে দুই পর্যায়ে ইফতারের রীতি আছে। প্রথমে শুধু গাহওয়া (আরবি কফি) ও খেজুর খাওয়া হয়। মাগরিবের নামাজের পর মূল পর্ব শুরু হয়।
হিজাজ অঞ্চলে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাবারের একটি হলো বার্লি স্যুপ। হাব নামে পরিচিত খাবারটি বিশেষ সুগন্ধি ও স্বতন্ত্র স্বাদের জন্য বিখ্যাত। আরেকটি খাবার হলো সামবোসা। মূলত তা ত্রিভুজ আকারের ভাজা সুস্বাদু পেস্ট্রি। এর ভেতরের অংশ গ্রাউন্ড বিফ বা চিকেন দিয়ে ভরা থাকে। হিজাজসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাহরি ও ইফতারের অন্যতম উপাদান ফৌল (Foul)। দেশ ও অঞ্চলভেদে তা তৈরির নিজস্ব নিয়ম আছে।
হিজাজ অঞ্চলে এ খাবারে বিশেষ ধরনের ধোঁয়াটে গন্ধ থাকে। ছোলা ও মসলা থেকে তৈরি বিশেষ ধরনের রুটি, যা ঘি ও সুহাইরা দিয়ে পরিবেশন করা হয়। রমজান মাসে এ খাবারের প্রতি সবার বেশ আগ্রহ থাকে।
এদিকে সৌদি আরবের মধ্য অঞ্চলের ইফতারসামগ্রীতে রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। এখানকার বাসিন্দারা আসিদাহ, মারগুগ, মাফরুক ও মাতাজিজ দিয়ে ইফতার করেন। রিয়াদের সামিরাহ আল-আনিজি বলেন, হানিনি আমাদের অন্যতম ইফতারসামগ্রী। ঐতিহ্যবাহী নাজদি মিষ্টান্ন খাবারগুলো বাদামি শস্য, গরুর মাংস, শাকসবজি, মধু, পেঁয়াজ বা ঘি দিয়ে তৈরি করা হয়। শীত মৌসুমে এসব গরম খাবার শরীরে শক্তি ও উষ্ণতা তৈরি করে। রিয়াদ থেকে কাসিম অঞ্চলে ইফতারসামগ্রীর অন্যতম একটি উপাদান তাওয়া। তা গমের আটা, কালিজিরা ও চিনি দিয়ে তৈরি করা হয়। হায়েল অঞ্চলের জনপ্রিয় একটি খাবার হলো মাকশুশ। তা ঘি, মধু, খেজুর, গুড় ও চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয়। গত মাসে খাবারটি সৌদি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের রন্ধনশিল্প কমিশন জাতীয় ডেজার্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জাজানে ইফতারসামগ্রী হিসেবে মগশ, মারসা ও মাশগৌথার মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়। প্রথমে তা তাজা দুধের সঙ্গে মিশ্রিত ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয় এবং খেজুরের সঙ্গে গরম করে পরিবেশন করা হয়। অধিকাংশ পরিবারই এসব খাবার তৈরিতে ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলী অনুসরণ করে। তা ছাড়া মাংস, সামবোসা, মাছ, কামার আল-দিনের জুস, শাফুটসহ শস্যের স্যুপ ও মাখলুটা ইফতার হিসেবে পরিবেশন করা হয়। আর পূর্বাঞ্চলে রমজানের ইফতারের খাবারের কিছুটা বৈচিত্র্য রয়েছে। এখানকার জনপ্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে খেজুর গুড়ের সারিদ ও ভাজা ডাম্পলিং। সারিদ হলো এক ধরনের সবজির মিশ্রণ, যা জুচিনি, গাজর ও আলু দিয়ে তৈরি করা হয়। আর পাতলা রুটির ওপর ভেড়ার মাংসের ছোট ছোট টুকরা জমা থাকে।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ১০:৫৩