বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

রমজানে রোজার বিধান যেভাবে এসেছে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০২৩
  • ৮২ Time View

ডেস্ক নিউজ : েইসলাম স্বভাবজাত ধর্ম। মানুষের সাধ্যাতীত কোনো আদেশ ইসলাম দেয়নি। ইসলামের স্বর্ণযুগে বিভিন্ন বিধান অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা চূড়ান্ত নীতি একসঙ্গে বলে দেননি। এটি ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। বিভিন্ন আহকাম নাজিলের ক্ষেত্রে ক্রমানুসার অগ্রসর হওয়ার নীতি অবলম্বন করেছে। যাতে মানুষের জন্য মানা সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘…আল্লাহ তোমাদের পক্ষে যা সহজ সেটাই চান, তোমাদের জন্য জটিলতা চান না…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

এ জন্য ইসলামের যাবতীয় বিধান মক্কায় অবতীর্ণ না হয়ে মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। মক্কায় শুধু তাওহিদ বা একত্ববাদের দাওয়াত ছিল।

নামাজের চূড়ান্ত বিধান তিনবারে এসেছে—

এক. প্রথমেই ছিল শুধুমাত্র রাতের কিছু অংশে নামাজ আদায় করা। আল্লাহ বলেন, ‘হে চাদরাবৃত, রাতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি রাত (ইবাদতের জন্য) দাঁড়িয়ে যাও। রাতের অর্ধাংশ বা অর্ধাংশ থেকে কিছু কমাও।’ (সুরা : মুজ্জাম্মিল, আয়াত : ১-৩)

দুই. দ্বিতীয় পর্যায়ে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের ওপর দুই রাকাত করে নামাজ ফরজ করেছেন। আয়েশা (রা.) বলেন, নামাজ ফরজ করার সময় আল্লাহ তাআলা দুই রাকাত করে ফরজ করেছিলেন। তবে পরে বাড়িতে অবস্থানকালীন নামাজ বৃদ্ধি করে পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন নামাজ আগের মতো দুই রাকাত রাখা হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৫৬)

তিন. তৃতীয় ধাপে চূড়ান্তভাবে আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।

রোজার বিধান যেভাবে এসেছে

হিজরতের আগে মক্কা নগরীতে রোজা ফরজ হয়নি; বরং মদিনাতে ফরজ হয়েছে। নামাজের মতো রোজাও ধাপে ধাপে এসেছে—

এক. মুসলমানদের ওপর প্রথমে রোজার বিধান ছিল, প্রতি মাসে তিন দিন আর আশুরার রোজা রাখা। সালামাহ ইবনে আকওয়া (রা.) বলেন, নবী (সা.) আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে লোকজনের মধ্যে এ মর্মে ঘোষণা দিতে আদেশ করলেন, ‘যে ব্যক্তি খেয়েছে, সে যেন দিনের বাকি অংশে সাওম পালন করে, আর যে খায়নি, সেও যেন সাওম পালন করে। কেননা আজকের দিন আশুরার দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০০৭)

দুই. আল্লাহ তাআলা রোজা ফরজ করেছেন। ঐচ্ছিক হিসেবে যারা রাখতে চায় তারা রাখবে, যারা রাখতে না চায় তারা এর জন্য ফিদয়া দিয়ে দেবে। সালমা ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যারা রোজা রাখতে সক্ষম (অথচ রোজা রাখতে চায় না) তারা ফিদয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করবে। যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, কেউ যদি রমজানে রোজা রাখতে না চাইত, সে ফিদয়া আদায় করে দিত। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হলো এবং তা পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুমকে মানসুখ (রহিত) করে দিল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৭৫)

এর হুকুম সম্পর্কে অবহিত হয়ে সাহাবারা খুবই খুশি হলেন। এরপর নাজিল হলো, ‘আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কালো রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯১৫)

মদ যেভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে

হারামের ক্ষেত্রেও একই বিধান রক্ষা করেছে ইসলাম। মদ ক্রমান্বয়ে তিন ধাপে হারাম করা হয়েছে।

প্রথমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। আপনি বলে দিন, এ দুটোর মধ্যে মহা পাপও আছে এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারও আছে। আর এ দুটোর পাপ তার উপকার অপেক্ষা গুরুতর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৯)

কিন্তু শুরুতেই হারাম করে দেওয়া হলে মানুষের পক্ষে এ নির্দেশ পালন করা কঠিন হতো। কাজেই প্রথমে এর ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, এরপর হারাম করে দেওয়া হয়।

 

কিউএনবি/আয়শা/৩১ মার্চ ২০২৩,/বিকাল ৪:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit