স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৯৯তম দেশ সেশেলসের বিপক্ষে স্বস্তির এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই জয়ের পর উচ্ছ্বাস মাত্রাতিরিক্ত হলেও ক্ষতি নেই। কারণ প্রতিপক্ষ দলে যে খেলছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও বুন্দেসলিগায় খেলা এক ফুটবলার। তিনি মাইকেল মানসিয়ানে। ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশটির ‘মহাতারকা’ তিনিই।
মানসিয়ানে খেলেছেন জার্মানির বুন্দেসলিগার দল হামবুর্গের হয়ে। বর্তমানের তার ঠিকানা ইংল্যান্ডের ডিভিশন ওয়ানের বার্টন আলবিয়ন এফসি। তবে মূল পরিচয় চেলসির সাবেক ডিফেন্ডার তিনি। দ্যা ব্লুজের হয়ে মানসিয়ানের অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। সেটি ছিল এফএ কাপে। ওয়ার্টফোর্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। চেলসির সিনিয়র সেই দলটির হয়ে চারটি ম্যাচ খেলা হয়েছে তার। যার মধ্যে একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচও।
লন্ডনে জন্ম নেওয়া মানসিয়ানে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলের হয়েও। অনূর্ধ্ব-১৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ২১ দলে খেলেছেন। তার স্বপ্ন ছিল ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর। সেই স্বপ্ন পূরণের খুব কাছেও চলে গিয়েছিলেন। জার্মানির বিপক্ষে একটি ম্যাচে ডাক পান মূল জাতীয় দলে। সেটা ছিল ২০০৮ সালের কথা। ইংল্যান্ডের কোচ ছিলেন তখন ইতালিয়ান ফ্যাবিও ক্যাপেলো। ১৫ নভেম্বর ঘোষিত সেই স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছিলেন তিনি।
জার্মানির বিপক্ষে ১৯ নভেম্বর খেলতে নেমেছিল ইংল্যান্ড। বার্লিনে সেই ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছিল ইংলিশরা। সেই ম্যাচে কি অভিষেক হয়েছিল? নাহ! খেলা হয়নি মানসিয়ানের, বেঞ্চে ছিলেন তিনি। তারপর আর দরজা খুলেনি তার। ইংলিশদের জার্সিও তার গায়ে জড়ানো হয়নি। হতাশাটা লুকিয়ে রাখেননি তিনি। সিলেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘এই আফসোসটা আমার সব সময় থেকেই যাবে।’

ইংলিশদের হয়ে খেলতে না পারা মানসিয়ানেকে পেয়েছে সেশেলস। ৩৪ বছর বয়সে গত বছর জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় তার। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় শনিবার সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা ফিফা প্রীতি ম্যাচটি সেশেলসের হয়ে তার চতুর্থ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। জাতীয় দলে খেলেন সেন্টারব্যাক হিসেবে, পরেন ৪ নম্বর জার্সি। বাংলাদেশের আক্রমণ সামলেছেন ভালোই। বয়স ৩৫ হয়ে যাওয়ায় গতি একটু কমে গেছে, তবে নিজের মান বোঝাতে এখনও তৎপর মানসিয়ানে। মানসিয়ানের বাবাও খেলেছেন সেশেলস জাতীয় ফুটবল দলে। তার নামও মাইকেল মানসিয়ানে। অর্থাৎ সেশেলসে এখন যিনি খেলছেন, জুনিয়র মানসিয়ানে।
তার বাবা-মা দুজনেই সেশেলসের। সত্তর দশকের শেষ দিকে তখন সেশেলসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়ে ওঠে অস্থির। ১৯৭৭ সালে অভ্যুত্থান হয়ে যায় মাত্র ৪৫৫ বর্গ কিলোমিটারের ভারত মহাসাগরের দ্বীপটিতে। ক্ষমতায় আসে অনির্বাচিত সরকার। অনেক মানুষ দেশ ছাড়েন, যার মধ্যে আছেন মানসিয়ানের মা-বাবাও। তারা ইংল্যান্ড গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চান, সেটাও পেয়ে যান তারা। ওয়েস্ট লন্ডনের ফেলথামে ১৯৮৮ সালে তার জন্ম। এসব গল্প মানসিয়ানের পাশে বসে বলছিলেন সেশেলসের ম্যানেজার।
১৯৭৭ থেকে টানা একটা দল দেশটি শাসন করত। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। ১৯৯৩ সালে বহুদলের রাজনীতির অনুমতি মিলে, নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও সুযোগ পায় অন্যান্য দলগুলো। তবে সরকারে থেকে যায় তারাই। সেই দলটি বিদায় নিয়েছে গত বছর। ৪৩ বছর পর দেশটিতে সরকার করেছে অন্য একটি দল। পর্যটন-দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নাকি এখন আগের চেয়ে ভালো। মানুষও খুশি। তবে পরিবার নিয়ে ইংল্যান্ডে বসবাস করা মানসিয়ানের সেলেশসের রাজনৈতিক বিষয়ে খুব একটা ধারণা নেই। তার প্রেম ফুটবলকে ঘিরেই। এই খেলা দিয়ে মানসিয়ানে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনেক উঁচুতে। এখন তো তিনি একটা দেশের ফুটবলের মুখ, আশার প্রতীক।
কিউএনবি/আয়শা/২৬ মার্চ ২০২৩,/রাত ৯:০৮