আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাপানি সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৯৯ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুহার নথিভুক্ত করা হয় জাপানে। অর্থাৎ ১২৪ বছর ধরে দেশটিতে কত শিশু জন্মেছে ও কত মানুষ মারা গেছে তার একটি হিসাব রাখছে দেশটির সরকার। আর সেই হিসেব রাখার শুরু থেকে দেখা গেছে গত বছর দেশটিতে সবচেয়ে কম সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। আর এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে দেশটির সরকার।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ সালে জাপানে জন্ম নিয়েছে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৮ জন শিশু। যা ২০২১ সালের তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম। তবে জন্মহার হ্রাস পেলেও বেড়েছে মৃত্যুহার। গেল বছর দেশটিতে ১০ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ মারা গেছে বলে জানা গেছে। এদিকে জন্মহার কমে যাওয়ায় এক ধরনের চিন্তার মধ্যে পড়েছে জাপান সরকার। জন্মহার কম মানে, ভবিষ্যতে দেশটিতে কর্মক্ষম মানুষ এবং করদাতার সংখ্যা কমবে।
এ বিষয়ে গত সপ্তাহে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জানান, জন্মহার এখন এতোটাই কম যে কয়েক বছর পর হয়ত জনবলের অভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে বিপাকে পড়বে বিভিন্ন শ্রম খাত। মূলত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ে নিয়ে অনাগ্রহ, নারীদের সন্তান জন্মদানে অনিচ্ছা, ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা, জায়গা স্বল্পতা ও শিশু লালন পালনের জন্য অপর্যাপ্ত ডে কেয়ারের কারণে জনসংখ্যা বাড়ছে না বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মাত্র ৪০ বছরে জনসংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে। ১৯৮২ সালেও দেশটিতে প্রায় ১৫ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল। কিন্তু ২০২২ সালে তা নেমে এসেছে ৮ লাখেরও নিচে।
কিউএনবি/আয়শা/০৩ মার্চ ২০২৩,/দুপুর ২:২৯