মোঃ আমজাদ হোসেন,রাজশাহী প্রতিনিধি : উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,রাজশাহী মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।জনসভায় উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের এ জয়যাত্রা, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি আপনারা সেই জন্য নৌকায় ভোট দেবেন।তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন।আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবারও আপনাদের আহ্বান করবো আগামী নির্বাচনে এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে; আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কিনা ওয়াদা চাই। এ সময় মাঠে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই রাজশাহী সব সময় অবহেলিত ছিল। বিগত মেয়র নির্বাচনে আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করেছেন। আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয় মন্তব্য করে দলটির সভাপতি বলেন, এ সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এ সংগঠন যখনই ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। যেখানে ৪০ ভাগ দারিদ্র সীমা ছিল, আমরা ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সমস্ত ভাতা আমরা দিয়ে যাচ্ছি।শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
রাজশাহীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোটেল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে আমরা এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করতে পারবো।রবিবার বিকেল ৩টার সময় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভাস্থলে পৌঁছান তিনি।এসময় মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে প্রবেশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে সকাল ১০টার সময় সমাবেশ শুরু হয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। আজ সকাল ১১টার মধ্যেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। মিছিলে মিছিলে পরিণত হয়েছিল রাজশাহী মহানগরী।রাজশাহী শহরের ৩টি প্রবেশপথ দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ ভোর থেকেই ছোট-বড় মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাসে-ট্রাক, নৌকা যোগে ৮টি বিশেষ ট্রেন এবং পায়ে হেঁটে জনসভাস্থলে এসেছিলেন। জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নেতাকর্মীদের রাজশাহীতে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।ছোট ছোট ট্রাক থেকে তাদের মাঝে খাবার, পানি, ক্যাপ ও টি শার্ট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সমাবেশকে ঘিরে ২টি বড় বড় পানির ট্যাংক ছাড়াও শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে ৫ লাখ পানির বোতল রাখা হয়েছিল।শহরের চলমান ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। দূর থেকে আসা বাস-ট্রাকগুলো রাখার জন্য প্রধান প্রধান সড়কের একটি করে লেন ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল।মিছিল আসা মানুষের অনেককে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে চান। তারা তার কাছে থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনতে চান।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল, শেখ রাসেল শিশু পার্ক, মোহনপুর রেলক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার, ভদ্রা মোড় রেলক্রসিং-নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত চার লেন সড়ক ও রোড ডিভাইডার, বন্ধগেট থেকে সিটি হাট পর্যন্ত চার লেন সড়ক ও রোড ডিভাইডার, রেন্টুর খড়ির আড়ৎ হতে হাইটেক পার্ক হয়ে ঢালুর মোড় পর্যন্ত কারপেটিং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত এবং কোর্ট হতে পশ্চিম শহরতলী ক্লাব পর্যন্ত কারপেটিং রাস্তা, আলুপট্টি থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত চার লেন সড়ক, পুঠিয়া-বাগমারা মহাসড়ক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলা হতে ১০ম তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ-সহ সর্বমোট ২৫টি প্রকল্প।অন্যদিকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রকল্পগুলো হচ্ছে ২৪ কোটি টাকায় তথ্য কমপ্লেক্স ভবন, ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আঞ্চলিক জনপ্রশাসন অফিস ভবন, ৬২ কোটি টাকায় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বালক উচ্চ বিদ্যালয়। ১৬২ কোটি টাকায় বিকেএসপি’র আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ করা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যায়ে মোট ৩১ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। যার মধ্যে ২৫ টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ৬ টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে রাজশাহী পৌঁছে সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক শিল্পমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী, রাজশাহী-৫ পুঠিয়া দুর্গাপুর আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডাঃ মোঃ মুনসুর রহমান, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।সকাল থেকে জনসভা মাঠে জড়ো হন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মাদরাসা মাঠের বাইরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
কিউএনবি/অনিমা/৩০ জানুয়ারী ২০২৩/দুপুর ১:৪৭