ডেস্ক নিউজ : মহান আল্লাহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে আমাদের শারীরিক অবকাঠামো তৈরি করেছেন। অতঃপর সুস্থ থাকার জন্য খেলাধুলা, বিনোদন ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য খাদ্য-খাবার, আহারবিহার ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা করেছেন। আমাদের এই সুন্দর শরীর আল্লাহপ্রদত্ত নিয়ামত। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছি।
’ (সুরা ত্বিন, আয়াত : ৪)
শরীর সুস্থ থাকলে মন ভালো থাকে আর শরীর অসুস্থ থাকলে পারিবারিক ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং দুশ্চিন্তা বাড়ে। ফলে ইবাদত, আনুগত্য, পরিশ্রম, বিনোদন ইত্যাদি কোনো কিছু ভালো লাগে না। এ ক্ষেত্রে ভালো স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ব্যয়াম করা।
শিশুরা অবোধ। তাই তাদের স্বাস্থ্যের, বিনোদনের ও খেলাধুলার জন্য মাতা-পিতা ও অভিভাবকদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। খেলাধুলার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে তাদের জানাতে হবে। খেলাধুলার পরিশ্রমের কারণে রক্ত সঞ্চালনের দরুন পরিপাকতন্ত্র সবল হয়, খাদ্য হজমে সহায়ক হয় এবং ঘাম নির্গত হয়ে শরীরের দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। সাময়িক ক্লান্তি হলেও দৈহিক শক্তি সঞ্চয় হয়। খাদ্যের চাহিদা বাড়ে এবং শরীর সুস্থ থাকে। এটা শিশুদের অধিকার। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার শরীরের প্রতি তোমার কর্তব্য ও অধিকার আছে। ’ (মুসলিম, হাদিস : ২৭৮৭)
শরীরের হক যেমন আরাম করা, তেমন পরিশ্রম করাও একটি অধিকার। খেলবে শিশুরা, খেয়াল রাখবে অভিভাবকরা। তাস, পাশা, জুয়া, দাবা, কেরাম, লুডু ইত্যাদি খেলা বাচ্চাদের অলস, দুর্বল ও নেশাগ্রস্ত করে তোলে। সুতরাং এসব খেলা পরিত্যাগ করে শ্রমনির্ভর খেলা দৌড়, সাঁতার, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল ইত্যাদি খেলায় অভ্যস্ত করে গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের শরীরের যত্ন নেওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেওয়া মা-বাবা ও অভিভাবকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তবে পড়াশোনা ও ইবাদতে যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে—সেদিকে সর্বদা লক্ষ রাখতে হবে।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:০৫