মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে গ্রামরক্ষা বাঁধ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২০৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : শুকনো মৌসুমে যমুনার চরাঞ্চলে জেগে উঠেছে বালুময় ফসলি জমি। আর এসব ফসলি জমির মালিকদের জিম্মি করে জেগে ওঠা জমিতে ভেকু বসিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অবাধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে মেতেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিছু অসাধু বালু খেকো, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় কিছু নেতাসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। তবে স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান করলেও অদৃশ্য কারণে কয়েক দিন পর পুনরায় শুরু হয় বালু উত্তোলন।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষাকালে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর বিলীন হয় ফসলি জমি, বসতভিটা, ঘরবাড়ি, মসজিদ-মন্দির, সড়ক, স্কুলসহ নানা স্থাপনা। সেই সময় ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেললেও ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব-ভূঞাপুর সড়কের গোবিন্দাসী কাকুদাইর পর্যন্ত সেতু রক্ষা বাঁধ, বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস গাইড বাঁধ ও ভূঞাপুর-তারাকান্দি মহাসড়ক। 

এ ছাড়া বালু উত্তোলনের ফলে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে গভীরতা। সরেজমিন দেখা গেছে, বন্ধবন্ধু সেতু এলাকার সারপলশিয়া থেকে গোবিন্দাসী পর্যন্ত প্রায় ১৪-১৫টি বালুঘাট রয়েছে। কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া, পাটিতাপাড়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে বাংলা ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করে আসছে। অপরদিকে ভূঞাপুর-তারাকান্দি মহাসড়ক সংলগ্ন অর্জুনার কুঠিবয়ড়া থেকে নলিনবাজার পর্যন্ত ৫-৬টি অবৈধ বালুঘাট তৈরি করে গাইড বাঁধের কাছ থেকে ভেকু (মাটিকাটার যন্ত্র) দিয়ে উত্তোলন এবং তারাকান্দি মহাসড়কের প্যালাসাইডিং ভেঙে রাস্তা তৈরি করে শত শত ট্রাকে বালু বিক্রি করছে। 

জগৎপুরা এলাকার ভুক্তভোগী মানিক হোসেন ও রায়ের বাসালিয়া গ্রামের শেফালী বেওয়াসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গাইড বাঁধের কাছ থেকে রাত-দিন ভেকু (মাটিকাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির বাটুমাটি কেটে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। তাদের ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি না। প্রতি বছর নদীর পানি শুকিয়ে গেলে জেগে ওঠা চর কেটে বিক্রি করছে তারা। এভাবে বালু মাটি কেটে ফেলা হলে বন্যার সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভূঞাপুর উপজেলায় অর্জুনা, কুঠিবয়ড়া, জগৎপুরা ও গুলিপেচা এবং গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া, পাটিতাপাড়াসহ যেসব এলাকায় গাইড বাঁধসংলগ্ন থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেসব এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কিউএনবি/আয়শা/২১ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ২:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

June 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit