শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরের প্রতিবাদ, নিউইয়র্কে গ্রেফতার ১০৩ ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিতে সম্মত ইইউ নারীর আপত্তিকর ছবি মুছে ফেলতে মেটাকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লেজার প্রযুক্তির অস্ত্র মোতায়েন, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য জাতিসংঘে সানগ্লাস পরে কেন বক্তব্য দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখঢাকা নিষিদ্ধ ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সায় ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিং আজ

মেডিটেশন যুগে যুগে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১১৭ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : ধ্যান মেডিটেশন মোরাকাবা, তাফাক্কুর- শব্দগুলো ভিন্ন হলেও মূল নির্যাস একই। বিভিন্ন ধর্ম আর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এটি প্রায়োগিকভাবে ভিন্ন রূপ নিলেও পানির সার্বজনীনতার মতোই ধ্যানের নির্যাস সার্বজনীন, সকল মানুষের জন্যে।

যুগে যুগে দেশে দেশে সাধকরা আত্ম উপলব্ধির জন্যে এ প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করেছেন। মুনি-ঋষিরা পরমাত্মার সাথে সংযুক্ত হওয়ার সাধনায় যোগ-ধ্যানকে ব্যবহার করেছেন। স্রষ্টায় সমর্পণের জন্যে সুফিসাধকরা নিমগ্ন হয়েছেন মোরাকাবা-মোশাহেদায়।

“নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানে (তাফাক্কুর) নিমগ্ন হয় এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি।” [সূরা আলে ইমরান : ১৯০-১৯১]

প্রাচ্যের হাজার বছরের ঐতিহ্য এই ধ্যান, মোরাকাবা বা মেডিটেশনই এখন পাশ্চাত্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রয়োগ হচ্ছে মূলত প্রশান্তি ও আত্মনিরাময় লাভের ক্ষেত্রে।

৫০০০ বছর আগের লিখিত নিদর্শন

প্রাচীন মানুষ যে ধ্যান বা মেডিটেশন চর্চা করতেন তার লিখিত প্রমাণের বয়সই কমপক্ষে পাঁচ হাজার বছর। ৫ হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় তন্ত্রশাস্ত্রে ধ্যানের উল্লেখ আছে। এটি সতের শতকের একটি দুর্লভ উপনিষদ পান্ডুলিপির খণ্ডাংশ। এখানে ধ্যানের কথা বলা আছে।

মোজেস বা মুসা

ইহুদি ধর্মের প্রাণপুরুষ মোজেস বা মুসা সিনাই পাহাড়ে ৪০ দিন ধ্যানমগ্ন থেকে আল্লাহর বাণী লাভ করেন। তাওরাতে পিতা আইজ্যাকের সান্ধ্যকালীন প্রার্থনার জন্যে মাঠে যাওয়া প্রসঙ্গে হিব্রুতে যে ‘লাসাচ’ (Lasuach) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, এটা আসলে ধ্যানেরই একটি পরিভাষা।

মহেঞ্জোদারো সভ্যতা

ধ্যানচর্চার প্রাচীন ইতিহাসের আরো কিছু নিদর্শন মিলেছে মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে। আজ থেকে ৪৬০০ বছর আগে সিন্ধু অববাহিকা অঞ্চলে বিকশিত এ সভ্যতার একটি প্রাচীন সিলমোহরে দেখা যায় ধ্যানাসনে বসে একজন যোগী গভীর ধ্যানে মগ্ন।

মহামতি বুদ্ধ

মহামতি বুদ্ধ ধ্যানের পথে বোধি লাভ করেছেন। ধ্যানের মাধ্যমেই নির্বাণ লাভের পন্থা শিখিয়েছেন অনুসারীদের। তাঁর ধ্যান পদ্ধতিকে ইউরোপ-আমেরিকায় এখন নানাভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক-মানসিক নিরাময়ের ক্ষেত্রে।

যিশু

যিশুখ্রিষ্টের জীবনে ধ্যান এবং প্রার্থনা হয়ে গিয়েছিল একাকার। যখনই সুযোগ পেতেন তিনি ধ্যান ও প্রার্থনায় নিমগ্ন থাকতেন। শিষ্যদেরও উৎসাহিত করতেন ধ্যানমগ্ন হতে।

হযরত মোহাম্মদ (স)

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স) বছরের পর বছর হেরা গুহায় কাটিয়েছেন ধ্যানমগ্ন অবস্থায়। ধ্যানের স্তরেই পবিত্র কোরআনের বাণী নাযিল হয়েছে তাঁর ওপর।

পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৯০-১৯১ আয়াতে বলা হয়েছে-

“নিশ্চয়ই আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, দিন-রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। তারা দাঁড়িয়ে, বসে বা শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে। তারা আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানে (তাফাক্কুর) নিমগ্ন হয় এবং বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি কর নি।”

কোরআনের আরো বেশ কটি আয়াতে তাফাক্কুর বা তাদাব্বুরের যে কথা বলা হয়েছে, তা আসলে সৃষ্টিরহস্য নিয়ে ধ্যানেরই তাগিদ।

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান

অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। আজ থেকে হাজার বছর আগে বাংলার এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ ধ্যানের শিক্ষা দিয়ে উপমহাদেশ, তিববত ও চীনের সমাজ-জীবনের পঙ্কিলতা দূর করতে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

ইমাম গাজ্জালী

ইমাম গাজ্জালী। দীর্ঘ ১০ বছর নির্জনবাসের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেন আত্মশুদ্ধি এবং ধ্যানের পথেই মুক্তি। শরিয়তের সাথে সাধনাকে সম্পৃক্ত করে তিনি ইসলামি জীবনদৃষ্টির পুনর্জাগরণ ঘটান। পরবর্তী হাজার বছরে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের সাধক-দার্শনিকদের তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন। শুধু তাই নয়, তার লেখা থেকেই পাওয়া যায় যে, হযরত ইমাম বোখারীও মেডিটেশন করতেন।

হযরত মওলানা জালালুদ্দিন রুমি

বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী কবি দার্শনিক হযরত মওলানা জালালুদ্দিন রুমি। তিনি মোরাকাবায় নতুন মাত্রা যোগ করেন নৃত্য সংযোজন করে। তাঁর স্রষ্টায় সমর্পণ এবং বিশ্বজনীন প্রেমের দর্শন শতাব্দী পরিক্রমায় প্রভাবিত করে এসেছে চিন্তাশীলদের। বহু ভাষায় অনুদিত হয়েছে তাঁর রচনা। আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি পঠিত কবিদের একজন তিনি। তাঁর প্রেমের কবিতা অবলম্বনে রচিত গানের এলবাম স্থান পেয়েছে বিলবোর্ড টপচার্টে। টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে মিস্টিক অফ দি ইয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলে, “The sufi sect of the whirling dervishes dances to his rhyme. New age meditation echo his songs.” ২০০৭ সালে ইউনেস্কো তাঁর ৮০০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে এবং ‘শান্তির সপক্ষে মানুষের হৃদয়ে স্থান’ শীর্ষক অবদানের স্বীকৃতি দেয়।

কবি হাফেজ সিরাজী

ইরানের কবি হাফেজ সিরাজী সুফিধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি।

মধ্যযুগীয় সুফিধারা

সুফিধারায় ধ্যান বা মেডিটেশনের অবস্থান উল্লেখযোগ্য। জিকর বা স্রষ্টার স্মরণ এবং ফিকর বা আত্মমগ্ন ভাবনার চর্চার ধারাই পরে পরিণত হয়েছে বিশেষ প্রক্রিয়ার ধ্যানে। ১৬৩০ সালের এ ছবিটিতে একজন সুফিকে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী। বিশ্বাস, ভক্তি ও ভালবাসার সহজ সরল শিক্ষার মধ্য দিয়ে যিনি হয়ে উঠেছেন বাংলার লক্ষ ঘরে স্মরণীয় মহামানবে।

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস

শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস। ইংরেজ শাসনাধীন উপমহাদেশে এক বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আত্মিক পুনর্জাগরণের সূচনা করেন। বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের কাছে ধ্যান ও আধ্যাত্মিকতাকে সমাদৃত করে তোলেন।

স্বামী বিবেকানন্দ

শ্রীরামকৃষ্ণের প্রধান শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্মসভায় তাঁর বিখ্যাত ভাষণ প্রাচ্যের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিজয়ের সূচনা করে। পাশ্চাত্য অনুভব করতে পারে তাদের অন্তঃসারশূন্যতা। আধ্যাত্মিকতার প্রসারের জন্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেদান্ত সোসাইটি এবং ভারতে রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

হযরত এনায়েত খান

সুফিবাদের আন্তর্জাতিক ধারার প্রবর্তক হযরত এনায়েত খান। ইউরোপ এবং আমেরিকায় তিনিই ধ্যানের এই ধারাকে জনপ্রিয় করে তোলেন।

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র। তিনি বলেছিলেন, বাংলা জাগলে ভারত জাগবে… জগৎ জাগবে…। একেশ্বরবাদ এবং সকল ধর্ম ও মতসহিষ্ণুতা ছিল তাঁর শিক্ষার ভিত্তি। সবাইকে তিনি মিলিতভাবে সাধনার পথে ডাক দিয়েছেন।

মহাঋষি মহেশ যোগী

মহাঋষি মহেশ যোগী ষাটের দশকে পাশ্চাত্যে বেদান্ত দর্শনকেন্দ্রিক টিএম-কে পরিচিত করান। পরবর্তীতে যা পাশ্চাত্যের মিডিয়া এবং জনজীবনে ধ্যানচর্চাকে জনপ্রিয় করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

দালাই লামা

তিববতের আধ্যাত্মিক নেতা চতুর্দশ দালাই লামা। বুদ্ধের ধ্যান পদ্ধতিকে পাশ্চাত্যের বুদ্ধিজীবী ও বিজ্ঞানী মহলে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

নতুন যুগের সূত্রপাত

১৯৬৯-১৯৭০ দশকে মেডিটেশন চর্চায় নতুন যুগের সূত্রপাত হয়। নতুন নতুন পদ্ধতির আবির্ভাব ঘটে। এর মধ্যে টিএম, বা ট্রান্সেনডেন্টাল মেডিটেশন, সহজ যোগ, ন্যাচারাল স্ট্রেস রিলিফ, ফাইভ রিদম, থিটা হিলিং, সিলভা মেথড, ডা. হার্বার্ট বেনসনের রিলাক্সেশন রেসপন্স, ডা. কাবাত জিনের মাইন্ডফুলনেস বা মনোনিবেশায়ন উল্লেখ্যযোগ্য।

কিউটিভি/অনিমা/১৬ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৩৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit