রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আলভারেজ অথবা কেউ নয়, অনড় বার্সেলোনা ভূরুঙ্গামারীতে মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে মাদক কারবারিদের হামলা: আহত ১ ফুটবলে আগ্রহ হারাচ্ছে ব্রাজিলিয়ানরা বার্সেলোনা ছাড়ছেন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা তোরেস, ঠিকানা কোথায়? বাংলাদেশে সমকামিতা প্রচার ও প্রসারের পেছনে বামপন্থী দলের অনুসারীদের কে দায়ী করছে আজাদী আন্দোলন! পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও পেঁপে বাগান ধ্বংসের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে পিসিসিপির মানববন্ধন নওগাঁর পত্নীতলায় মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ বামনকুমার আলহাজ্ব খোষ মোহাম্মদ সরকার হাফেজিয়া মাদরাসায় যুক্ত হলো বয়স্ক নারী-পুরুষদের কুরআন শিক্ষা বিভাগ গ্যাসের দাম বাড়লেই পেট্রোবাংলা অবরোধ, হুঁশিয়ারি এনসিপির মাটিরাঙ্গা সেনা জোনের উদ্যােগে মানবিক সহায়তা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান।

আখাউড়া স্থলবন্দর পাথরের বদলে ‘ধুলা’ আমদানি

বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৯৮ Time View
বাদল আহাম্মদ খান ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথরের বদলে ‘ডাস্ট’ (ধুলা) আমদানি করা হয়েছে। কাগজে কালমে পাথর হিসেবে আমদানি করা ২৭০০ মেট্রিক টন ওই পণ্য পরীক্ষার পর আটকে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।  মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব আমদানির অভিযোগ আনা হয়েছে আমদানিকারক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আগামী ১০দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে আমদানিকারককে। পরবর্তীতে ওই পণ্য বাজেয়াপ্তহ তাদেরকে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হতে পারে বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা বলছেন, অন্যান্য বন্দর দিয়ে যে নিয়মে এ পণ্য আনা হয় সেটিই এখানে করা হয়েছে। পণ্য খালাস না দেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দায়ীর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টর ব্যবসায়িরা। রবিবার সকালে সরজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো কাগজে কলমে পাথর আমদানি করা হয় গত ১৩ নভেম্বর। কয়েক দফায় মোট ২৭০০ টন আমদানি করে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। এর সিএন্ডএফ এজেন্ট হলেন, খলিফা এন্টারপ্রাইজ, যার মালিক আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল। এসব পাথর আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করার কাজে ব্যবহার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা জানান। সড়কের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। আমদানি করা এসব ‘পাথরের’ মূল্য ধরা হয় প্রতি মেট্রিক টন ১৩ মার্কিন ডলার। রবিবার দুপুরেও স্থলবন্দরের অভ্যন্তরে খোলা আকাশের নীচে এসব পণ্য একাধিক স্তুপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খালিচোখে স্পষ্টতই এসব পণ্য ‘ধুলা’ মনে হয়। তবে এ বিষয়ে ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা বন্দর কর্তৃপক্ষের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

আখাউড়া শুল্ক স্টেশনে ডেপুটি কমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এর মাধ্যমে আনা পণ্য খালাসের জন্য তাদের মনোনীত এজেন্ট খলিফা এন্টারপ্রাইজ শুল্কায়নের জন্য আবেদন করেন। এ বিষয়ে চার সদস্যের একটি কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ি আমদানি ঘোষিত পণ্য ব্রোকেন অথবা ক্রাসড স্টোন (চ‚র্ণ পাথর) এর সঙ্গে আমদানি করা পণ্যের মিল নেই। আমদানি করা পণ্য হলো, ০.১ এমএম থেকে ০.৬ এমএম পর্যন্ত স্টোন ডাস্ট, যা আমদানিযোগ্য পণ্য তালিকায় অন্তভর্‚ক্ত নয়। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এস.আর.ও এর বিধান লংঘন করা হয়েছে। এটি কাস্টমস আইনের পরিপন্থী ও অর্থদন্ডসহ পণ্য চালানটি বাজেয়াপ্তযোগ্য।

এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এর ম্যানিজিং ডাইরেক্টর কাছে দেওয়া ও প্রয়োজনীয় কার্যার্থে খলিফা এন্টারপ্রাইজের মালিকের কাছে পাঠানো ০৭ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আমদানিকৃত পণ্য চালানটি বাজেয়াপ্তসহ কেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না তা আগামী ১০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। ব্যক্তিগত না পরামর্শক কিংবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের মধ্যে শুনানি প্রদানে ইচ্ছুক সেটিও উল্লেখ করা হয় এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এর কাছে পাঠানো চিঠিতে। খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. নাসির উদ্দিন ও আমজাদ হোসেন রিপন জানান, দেশের আরো বিভিন্ন বন্দর দিয়ে সে কোডের মাধ্যমে এটি আসছে এখানেও তাই করা হয়েছে। প্রথম দফা আনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায় সব আনার পর অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে এটির অনুমতি নেই। যে কারণে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা করে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দিতে হচ্ছে পণ্য রাখার কারণে। এতে বেশ লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আশুগঞ্জ নদী বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কের কাজে ব্যবহারের জন্য এ পণ্য আনা হয়। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসের অনুমতি দিচ্ছে না। মূলত অন্যান্য বন্দর দিয়ে একই কোডে এ ধরণের পণ্য আসে।’আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা ও পাথর আমদানি বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলকারিদের একজন মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী রবিবার দুপুরে বলেন, ‘পাথরের কোড ব্যবহার করে পাথরের ডাস্ট আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা প্রতিবেদন দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদেরকে চিঠি দিয়েছেন। এখন কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ি আমরা তা বাস্তবায়ন করবো।’

কিউএনবি/অনিমা/১৩ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit