আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ব্যাপক প্রচার এবং বিতর্কের পর নেটফ্লিক্সে হ্যারি অ্যান্ড মেগান সিরিজটি বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। ডিউক আর ডাচেস অব সাসেক্স কোন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বাকিংহাম প্যালেসের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে এসেছিলেন এ সিরিজ তার ভেতরের খবর প্রকাশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিজের ট্রেলারে ‘মেগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, একটি ‘নোংরা খেলার’ অংশ হিসেবে প্রাসাদে কাহিনী ফাঁস ও সাজানো গল্প তৈরি করা হয়েছিল।
বাকিংহাম প্যালেস এ দাবির প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তিনটি পর্বের সিরিজটি ৮ এবং ১৫ ডিসেম্বর দুটি ভাগে মুক্তি পাচ্ছে। বাকিংহাম প্যালেসসহ বিভিন্ন মহল থেকে সিরিজের কাহিনির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিরিজটিতে প্রাসাদ জীবনের ‘বদ্ধ দরজার পেছনের’ ছবি তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রিন্স হ্যারি ‘এই প্রতিষ্ঠানে (প্রাসাদ) বিয়ে হয়ে আসা নারীদের বেদনা ও যন্ত্রণা’ সম্পর্কে কথা বলেছেন। দৃশ্যত তিনি তার স্ত্রী মেগান এবং প্রয়াত মা প্রিন্সেস অব ওয়েলস ডায়ানার কথা বোঝাতে চেয়েছেন।
ট্রেলার থেকে ইঙ্গিত মেলে, টিভি প্রামাণ্যচিত্রটি প্রিন্স হ্যারি এবং সাধারণ পরিবারের মেয়ে মেগানের মধ্যে ‘গোপন’ প্রেমের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠেছিল সেই গল্প বলবে।
তবে এটি মিডিয়া এবং জনসাধারণের সঙ্গে হ্যারি ও মেগানজুটির পরিবর্তনশীল সম্পর্কের বিষয়েও তাদের কথা তুলে ধরবে।
সিরিজটি হ্যারিদের দিকের ভাষ্য তুলে ধরবে। রাজপরিবারের বাকি সদস্যরা হয়তো দাবিগুলো কতদূর যায়, কোন প্রমাণ আছে কিনা এবং তাদের প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত কিনা এসব বোঝার জন্য পর্দায় নজর রাখবেন।
সিরিজটি তুলে ধরে বলেছেন প্রিন্স হ্যারি, ‘আমরা সম্পূর্ণ সত্যটা জানি’।
১৫ বছর বয়সের দর্শকের উপযোগী হিসেবে সার্টিফিকেট পেয়েছে সিরিজটি।
প্রামান্যচিত্রটিতে ব্যবহূত কিছু ছবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন,
একটি তাত্ক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের যে দৃশ্য ব্যবহার করা হয়েছে তা আসলে টিভি ব্যক্তিত্ব কেটি প্রাইসের ক্রাউলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিতি বিষয়ক। রাজপরিবারের কোন ঘটনা ছিল না সেটা।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হ্যারি ও মেগানকে মানবাধিকার পুরস্কার দেওয়া হয়। সেখানে এ দম্পতি সাংবাদিকদের কাছ থেকে নানা অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের মুখোমুখি হন। যেমন: ‘আপনারা কি পরিবারের আগে অর্থকে স্থান দিচ্ছেন?’ এবং ‘আপনি কি পরিবারের ক্ষতি করছেন, হ্যারি?’
ট্রেলারের নাটকীয় ভাব থেকে অবশ্য কোন সমঝোতার লক্ষণ পাওয়া যায় না, বরং এটি রাজপরিবারের সঙ্গে আসন্ন সংঘর্ষেরই আভাস দেয়।
প্রসঙ্গত, নতুন বছরেই আসছে প্রিন্স হ্যারির অকপট স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’। সূত্র: বিবিসি
কিউএনবি/আয়শা/০৮ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৪৯