বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করা শফিকুল আলমের কাছে মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন দল সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার। মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দায়ের করা মামলায় আগামী ১৫ জানুয়ারি জবাব দিতে বিবাদীকে সমন জারি করেছেন আদালত। এর আগে গত ২ নভেম্বর আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়।
মামলায় উল্লেখ করায়, নির্বাচনের আগে ১৫ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল আলম আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ধ্বংসকারি, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের মহানায়ক বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার অটোরিকশা ও পঙ্খিরাজের কথিত অবৈধ লাইসেন্স প্রদানের মূল হোতা, জনবিছিন্ন নেতা ও ভোটারদের ভয় দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের এ বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শফিকুল আলম নিজেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিকবার নির্বাচন করে শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন। অন্যদিকে আল-মামুন সরকার দীর্ঘদিন যাবত নিষ্ঠার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দলীয় মনোনয়নে ওনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেননা, মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে সেটা চুড়ান্ত হয়। জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরে শুধুমাত্র দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হয়। আল-মামুন সরকার পৌরসভার মেয়র কিংবা মুখ্য কোনো কর্মকর্তা নন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আগামী সাতদিনের মধ্যে বাদীর মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ আছে।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, ‘ওনার (বর্তমান চেয়ারম্যান) মানহানি হওয়ার মতো আমি কিছু বলিনি। আর যেসব কথা বলেছি এসব বললে মামলা হলে তো প্রতিদিনই সারাদেশে অনেক মামলা হবে। ওনার ক্ষমতা ওনি এখন ব্যবহার করছেন। আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবেলা করা হবে।’
কিউএনবি/আয়শা/২২ নভেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/রাত ৯:৩০