শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাবানালে ঘরছাড়া হাজারো মানুষ ৭৫০ এরও বেশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পরিকল্পনায় ইন্দোনেশিয়া হরমুজ প্রণালীকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের, জবাবে যা বললো ইরান খুঁজছিলেন এক গ্রহ, হঠাৎ বৃহস্পতির চেয়ে দ্বিগুণ বড় গ্রহের খোঁজ পেল না বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ  চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী ভারতের প্রতি বাংলাদেশিদের ইতিবাচক মনোভাব কমেছে মোদির ‘কোলাকুলি’ নিয়ে রাহুল গান্ধীর মশকরা ইনফান্তিনোর পাশ থেকে সরে দাঁড়াল নিউজিল্যান্ডও, চায় স্বাধীন তদন্ত ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে তরুণদের সাইকেল র‍্যালি

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে জাতীয় উদ্যান উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৩৭ Time View

এম সাজেদুল ইসলাম(সাগর) নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)  : নবাবগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৪৯ হেক্টর জমির উপর নির্মিত ঐতিহ্যবাহী শালবাগান ইতিপূর্বেই জাতীয় উদ্যান হিসেবে তালিকাভুক্ত করে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উদ্যান উন্নয়নে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রকল্প বাস্তবায়নে চলতি বছর নতুন করে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।দিনাজপুর বিভাগীয় বন কার্যালয়ের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বৃহস্পতিবার জানান, নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান দেশের দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান। গত ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর এটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে উন্নয়ন করতে সরকার ঘোষণা দেয়।

শালবনটি ১ হাজার ২৭৮ দশমিক ৪৯ হেক্টর জমি নিয়ে এই জাতীয় উদ্যানটি গঠিত। এই বনে শালগাছ ছাড়া সেগুন, গামারি, কড়ই, বেত, বাঁশ, জামসহ ৩০ প্রজাতির গাছগাছড়া রয়েছে। প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকমের পাখি এবং শিয়াল, বানর, অন্যান্য ছোট-বড় জংলী পশু রয়েছে। যা সন্ধ্যার পর ছাড়া দেখা যায় না। এই উদ্যানেই রয়েছে বাল্মিকী মনির থান এবং ঐতিহাসিক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন সীতাকোট বিহার।

তিনি জানান- বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতিপূর্বে প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছে। চলতি বছর নতুন করে ২০ কোটি টাকা উদ্যান উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছে।নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এই জাতীয় উদ্যানের অবস্থান। তবে নবাবগঞ্জ সদরের জিরো পয়েন্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরত্ব হলেও অনেকটা শহরের গা-ঘেষে অবস্থান করছে নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যান।নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের প্রধান বৃক্ষশাল ও সেগুন। এছাড়াও আছে গামারি, ইউক্যালিপটাস, জাম, আকাশমনি ও নানান শ্রেণির অর্কিড। এই উদ্যানের বাসিন্দা বন্যপ্রাণীর মধ্যে আছে বনবিড়াল, বাংলা খেঁকশিয়াল, মেছোবাঘ ও নানান রকম সাপ। নানান জাতের পাখিও আছে এ বনে।

তবে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খেঁকশিয়াল। বনের মধ্যে থাকা প্রায় ৩০০ একর জলাশয়ে নিয়ে একটি বিল, যার নাম আশুরার বিল হিসেবে পরিচিত। বিলের চারি দিকে জলাশয় এবং মধ্যখানে একটি টিলা রয়েছে। ওই টিলায় পাকা অবকাঠামোর নিদের্শন পাওয়া যায়। কালের কোন এক সময়ে এই টিলায় কোন বড় ধরনের রাজা বা জমিদারের বালাখানা বা বাড়ির অবস্থান ছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ওই বিলে লাল খলসে মাছসহ বিলুপ্তপ্রায় ৮ প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। তাছাড়াও আইড়, শোল, গজাড়, টেংরা, বাইম, মাগুর, পুঁটি, চিংড়ি, কইসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। গত বছর বর্ষা মৌসুম শেষে ওই বিল থেকে প্রায় ১২০ টন মাছ পাওয়া গেছে। তবে অত্যন্ত সুস্বাদের জন্য এ বিলের সব ধরনের মাছ জনসাধারণের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নবাবগঞ্জ শালবাগানে আশুরার বিলে একটি প্রচলিত মুনির থান ঘাট রয়েছে।

ওই ঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে ১২ লাখ টাকা খরচ করে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ শাল কাঠ দিয়ে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ ৯০০ মিটার ইংরেজি বর্ণ জেড আকৃতির আঁকাবাঁকা কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটি গত ২০২১ সালের ২ মাস ধরে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়। দিনাজপুর ৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জানান, তিনি নিজ উদ্যোগে বন বিভাগের সাথে সমন্বয় করে এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের সেতুটি নির্মাণ করেছেন। ওই সেতুর নামকরণ করা হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কাঠের সেতু। সেতুটি ২০২১ সালের ১ জুন উদ্বোধন করা হয়। এই কাঠের সেতুর পশ্চিমে খটখটিয়া কৃষ্ণপুর ও পূর্বে নবাবগঞ্জ এলাকা।

সেতুটি দিয়ে বিলের দুই পাড়ের মানুষ যাতায়াত করছে। এই সেতু পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলার হরিপুর বাজার ও পশ্চিমে বিরামপুর উপজেলার রতনপুর বাজারকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, নানন্দিক পরিবেশে শাল বাগানের মধ্যে এবং ৩০০ একর জলাশয় আশুরার বিলকে নিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য বনের মধ্যে রাস্তা ও আবাসিক ব্যবস্থা করার জন্য একটি মাস্টারপ্লান বন বিভাগ ও নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্লানটি পরিকল্পনা কমিশনে পেশ করা হয়েছে।

চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হলে এই শালবন এবং আশুরার বিলটি দেশের একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। উদ্যানটি নানন্দিক পরিবেশে পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব এখান থেকে পাওয়া যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।তিনি জানান, এখন প্রতিদিন এই শালবাগানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশা মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে ভ্রমণ করতে আসেন। তারা যা আছে তা দেখেই মুগ্ধ হয়ে ফিরে জান বলে মন্তব্য করেন।

কিউএনবি/অনিমা/২০.১১.২০২২/দুপুর ১.০৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit