ডেস্ক নিউজ : রাজধানী ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে শহরের প্রতি মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা জাগ্রত করার লক্ষ্যে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি ও ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে এ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৭টায় ঐতিহাসিক ঢাকা গেট থেকে র্যালিটি শুরু হয়। সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব র্যালির উদ্বোধন করেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
র্যালিতে প্রায় ৩০০ নাগরিক অংশ নেন। ঢাকা গেট থেকে শুরু হয়ে টিএসসি, শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্সল্যাব, নীলক্ষেত, আজিমপুর, ঢাকেশ্বরী মন্দির, বকশীবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সচিবালয় ও বঙ্গবাজার হয়ে নগর ভবনে গিয়ে র্যালিটি শেষ হয়। পরে অংশগ্রহণকারী সাইক্লিস্টদের ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়। র্যালির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর, ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। ঢাকাকে ঘিরেই আগামী বাংলাদেশ। তাই একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, এমন একটি ঢাকা প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। বিশেষ করে তরুণদের নির্বিঘ্নে সাইকেল চালানোর সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, চার শতাধিক বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ঢাকার সঙ্গে নাগরিকদের আত্মিক ও মমত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা সময়ের দাবি।
নগরীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত পরিচিতির অভাবে অনেকের মধ্যে ঢাকার প্রতি কাঙ্ক্ষিত মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিক চেতনা গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, এর প্রভাব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে নাগরিকদের সামনে তুলে ধরে নগরের প্রতি ভালোবাসা, মমত্ববোধ ও দায়িত্বশীলতার চেতনা জাগ্রত করাই ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ডিএসসিসি জানায়, ‘আমার শহর, আমার দায়িত্ব’এ উপলব্ধিকে নাগরিক জীবনের অংশ করে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সচেতন ও বাসযোগ্য ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এ উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। উৎসবের ধারাবাহিকতায় শনিবার ১৫ আগস্ট মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে বুড়িগঙ্গা মঞ্চ পর্যন্ত ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’ অনুষ্ঠিত হবে। ২১ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ এবং সদরঘাটে শতবর্ষী হেরিটেজ ক্রুজের আয়োজন রয়েছে। ২২ আগস্ট মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
এ ছাড়া ২১ থেকে ৩০ আগস্ট ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’ ও ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচি, ২৮ আগস্ট ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ ঢাকা শোভাযাত্রা এবং ৩০ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, ‘ঢাকা আড্ডা’ ও কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৯ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১০:০০