তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ সম্পূর্ণ নতুন একটি বিশাল গ্রহের সন্ধান পেয়েছে। অন্য গ্রহ নিয়ে গবেষণার সময় বিজ্ঞানীদের চোখে আচমকাই ধরা দেয় বৃহস্পতির চেয়ে দ্বিগুণ ভরের এই এক্সোপ্ল্যানেটটি।
নতুন গ্রহটির নাম ‘বিটা পিকটোরিস ডি’। এটি পৃথিবী থেকে ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ২ কোটি ৩০ লাখ বছর বয়সী ‘বিটা পিকটোরিস’ নক্ষত্রজগতের অংশ। সেখানে আগে থেকেই ‘বি’ এবং ‘সি’ নামের দুটি গ্রহের অস্তিত্ব ছিল। ‘বি’ গ্রহটি ছিল সরাসরি ছবি তোলা প্রথম দিকের এক্সোপ্ল্যানেট। নতুন আবিষ্কারের ফলে এটি এমন দ্বিতীয় নক্ষত্রজগতে পরিণত হলো, যার অন্তত তিনটি গ্রহের সরাসরি ছবি মিলেছে।
বিজ্ঞানীরা মূলত টেলিস্কোপটির নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ (নিরস্পেক) ব্যবহার করে পরিচিত ‘বিটা পিকটোরিস বি’ গ্রহটির বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করছিলেন। নিরস্পেক-এর ইন্টিগ্রাল ফিল্ড ইউনিট প্রতিটি পিক্সেল থেকে ছবি ও বর্ণালি সংগ্রহ করে। তখনই উজ্জ্বল আলোর বিন্দুর বদলে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি অনন্য রাসায়নিক সংকেত ডেটায় ধরা দেয়, যা গ্রহটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করে। বিজ্ঞানীরা আসলে নতুন গ্রহ খুঁজছিলেনই না, তারা কেবল পরিচিত গ্রহটি বুঝতে চাইছিলেন।
গবেষকদের ধারণা, ‘বিটা পিকটোরিস ডি’ গ্রহটির ভর অন্তত বৃহস্পতির দ্বিগুণ। তবে ওই নক্ষত্রজগতের তিনটি গ্রহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ছোট। গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে প্রায় ৩০ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট দূরত্বে ঘুরছে, যা সৌরজগতে নেপচুনের দূরত্বের সমান। এর কক্ষপথই সবচেয়ে প্রশস্ত এবং এটি ধ্বংসাবশেষের চাকতির (ডেব্রিস ডিস্ক) ভেতরের প্রান্তে অবস্থিত।
‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ প্রকাশিত গবেষণার প্রধান লেখক এইডান গিবস বলেন, এই আবিষ্কার নক্ষত্রজগতটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকের মতে, গ্রহের গঠন বুঝতে বিটা পিকটোরিস অনেকদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের গবেষণাগার হিসেবে কাজ করছে; নতুন গ্রহটিও এখন সেই গল্পে সাহায্য করছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৪ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১০:১৬