সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম

গুজবে আন্তঃব্যাংক কলমানি রেট চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৫১ Time View

ডেস্কনিউজঃ গুজবের কারণে ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা অতিরিক্ত টাকা তুলছেন। ফলে ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে সাময়িক টাকার চাহিদা। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, যা ২০২১ সালের আগস্টে ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। আন্তঃব্যাংক কলমানি রেট চার মাসের সর্বোচ্চ ৫.৮৩ শতাংশ। নগদ অর্থ উত্তোলনের এক চাপের মুখে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) আন্তঃব্যাংক কলমানি রেট ৫.৮৩ শতাংশ ওঠে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য।

ব্যাংকগুলির সাময়িক টাকার চাহিদার প্রেক্ষিতে একে-অপরকে এক রাতের জন্য যে সুদে টাকা ধার দেয় তাই ওভারনাইট বা কলমানি রেট।

বৃহস্পতিবার কলমানিতে ৩ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ধার নিয়েছে ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগে বুধবার যার পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৩৫ কোটি এবং মঙ্গলবারে ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার কলমানি বাজারে, ওভারনাইট ভিত্তির লেনদেন ছাড়াও- ৭ দিনের নোটিশে গড়ে ৭.৬৩ শতাংশ সুদে ৫০৫ কোটি এবং দুই সপ্তাহের নোটিশে ৬.০৮ শতাংশ সুদে ৮৩৭ কোটি টাকা ধার নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আবুল কালাম আজাদ জানান, কলমানি রেট বাড়ার অর্থ-ব্যাংকে তারল্য সংকট নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপোর মাধ্যমে বাজারে দরকারি তারল্য সরবরাহ করে সহায়তা দিতে পারবে। আন্তঃব্যাংক পর্যায়ের লেনদেনে দরের ওঠানামা একটি স্বাভাবিক বিষয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, এর আগে বিপুল নগদ চাহিদার প্রেক্ষাপটে গত ৭ জুলাই ৫.৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল ওভারনাইট কলমানি রেট। তবে আগের ও পরের দিনগুলোয় এই হার ছিল স্বাভাবিক অবস্থানে। কারণ, নির্দিষ্ট কোনো কার্যদিবসের সাময়িক হারকে ততোটা গুরুত্ব দেন না ব্যাংকাররা।
গত ৭ জুলাইকে ধর্তব্যে না নিলে- ২০১৬ সালের পর কলমানিতে এত বেশি সুদে টাকা ধার হয়নি বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, কলমানিতে সুদহার বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু এখনো ঘটেনি। অতীতে এরচেয়ে অনেকগুণ বেশি রেটে টাকা ধার করেছে ব্যাংকগুলো। গুজবের কারণে মানুষ ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিচ্ছে উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, এতে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় একটা চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যারাই টাকা তুলছেন তারা আসলে বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। তারল্য সংকটের মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ১ লাখ ৭০ হাজার লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে, যা ২০২১ সালের আগস্টে ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

ব্যাংক সূত্রে জানায়, চলতি অর্থবছরের গত ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৫৮৭ কোটি ডলার বিক্রি করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে আসায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে। এর আগে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করায় ৬০-৭০ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসেছিল। বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিজার্ভ থেকে ডলার কেনার কারণে অতিরিক্ত তারল্য কমেছে। এজন্য তারা কলমানিতে কম সুদে একে-অপরকে টাকা দিতে চাইছে না।

কিউএনবি/বিপুল/১৮.১১.২০২২/রাত ৮.৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit