রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভেবেছিলাম হিমাচলে ফিরে যাব: ইয়ামি গৌতম অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন রোনালদো-জর্জিনা রদ্রিগেজ, অনুষ্ঠান কোথায়? গভীর রাতে দরজাহীন কুঁড়েঘরে বাঘের হানা, ঘুমের মধ্যেই ছিন্নভিন্ন নারী ভুরুঙ্গামারীতে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা নেত্রকোনায় আদালতের আদেশ ঘিরে জমি নিয়ে উত্তেজনা, জোরপূর্বক দখলচেষ্টার অভিযোগ মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও গাছের চারা বিতরণ। মাটিরাঙ্গায় জোনের উদ্যােগে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা বিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন। দাম বাড়ল এলপি গ্যাসের, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর মাটিরাঙ্গায় বন্যাদুর্গত ২১০ পরিবার পেল কাজুকো ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের সিলেট টিটিসির প্রতারক ড্রাইভার বিল্লাল আটক, ২ ঘন্টার পর মুছলেকা দিয়ে মুক্তি

‘আমার কেউ নাই, কে করে দেবে ঘর?’

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২২
  • ২৮২ Time View

ডেস্ক নিউজ : চারিদিকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। হেলে পড়েছে টিনের চাল। ভাঙ্গাচোরা জরাজীর্ণ ঘরের মধ্যে পুরনো একটি চৌকির ওপর শুয়ে আছেন পঁয়তাল্লিশ বছরের এনামুল হক। চৌকির ওপর ছেঁড়া কয়েকটা জামাকাপড়, কাদামাখা কয়েকখানা কাঁথা আর ধুলোর আস্তরণে ভরা বালিশ পড়ে রয়েছে মাথার পাশেই। মাথায় বাবরি চুল, মুখ ভরা দাড়ি নিয়ে এভাবেই প্রায় একযুগ ধরে সেই জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস মানসিক ভারসাম্যহীন এনামুলের। 

সরেজমিন গিয়ে এনামুলকে কেমন আছেন? এমন প্রশ্ন করতেই তার সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল ‘জানি না’। এমন জরাজীর্ণ ঘরে থাকতে কষ্ট হয় না? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, ‘কী করবো? এই ঘরেই থাকা লাগবি! কোথায় যাবো? আমার কেউ নাই! কে করে দেবে ঘর?’

দেখা যায়, ভাঙ্গাচোরা একটি চৌকির ওপর বিধ্বস্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন এনামুল। রাস্তার পাশেই জরাজীর্ণ সেই ঘর। সূর্যের আলো ভাঙ্গাচোরা ঘরের ভেতরটা আলোকিত করলেও কিন্তু অন্ধকার হয়ে গেছে এনামুলের জীবন। সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী চলে যাওয়ার পর এখন সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন! স্বজনরা একবার পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে দায় সেরেছেন। এর মধ্যে মারা যান এনামুলের বাবা-মা।

এরপর আর কখনই এনামুলের চিকিৎসা করানো হয়নি। সারা দিন শুয়ে শুয়ে প্রায় একযুগ কাটিয়ে দেওয়া এনামুল এখন সবার বোঝা! এক সময়ের কর্মঠ এই যুবকের কাছে জীবনের ভালো মন্দের বিবেচনা করার সময় নেই। কেউ খাবার দিলে তবেই খাবার জোটে, নয়তো কখনো সখনো না খেয়েই কাটিয়ে দেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা!

প্রতিবেশীদের গোয়ালঘর যতটা সুসজ্জিত ততোটাই জরাজীর্ণ এনামুলের শোবার ঘর। ঝড়-বৃষ্টি এলেও নির্লিপ্তভাবে বৃষ্টিতে ভিজে শুয়ে থাকে। এনামুলের এমন দুরবস্থা দেখে এলাকাবাসীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার একটি নতুন ঘরের কথা বলেছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।

শাহেদ হোসাইন নামে স্থানীয় এক যুবক যুগান্তরকে বলেন, এনামুল নামের এই মানুষটা এক সময় খুব পরিশ্রমী ছিলেন। কিন্তু সন্তানকে নিয়ে স্ত্রীর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি! এক সময় সন্তানের জন্য খুব কাঁদতেন। পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সব ভুলে গেছেন। তবে বর্তমান সময়ে একজন মানুষ এমন দুরবস্থার মধ্যে জীবনযাপন করবেন এটা ভাবতেই কষ্ট হয়। মানুষের গোয়াল ঘরও এর চেয়ে সুন্দর হয়। অসহায় এই মানুষটির জন্য একটা ঘর খুবই প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাণ্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল করিম মাস্টার যুগান্তরকে বলেন, সত্যিই এনামুল খুব কষ্টে জীবনযাপন করে। ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ মহল যুগান্তরকে বলেন, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি আমি জেনে অসহায় ওই মানুষটির জন্য যা যা প্রয়োজন সেই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৮ অগাস্ট ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit