শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নতুন ৪ মন্ত্রীর সম্ভাব্য দপ্তর, কে পাচ্ছেন কোন মন্ত্রণালয়? নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবে নিহত ৫০, বেশিরভাগই শিশু বঙ্গভবনে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর সবাই নিহত জর্জিয়ান তারকার হাতেই ব্যালন ডি’অর দেখতে চান ক্রুস ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার সংকীর্ণভাবে মূল্যায়ন করছে: হামিদুর রহমান নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জামায়াত আমিরের ফেসবুক পোস্ট পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত গাইতে ৬ মাস উর্দু শিখেছেন ব্রিটিশ গায়িকা লরা রাইট খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  গাছের চারা বিতরণ।

নওগাঁয় বৃষ্টির পানিতে স্বস্তি ফিরেছে আমন চাষে

সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি । 
  • Update Time : রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২
  • ১৮০ Time View

সজিব হোসেন নওগাঁ প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বদলে গিয়েছে বাংলার ঋতুচিত্র। কয়েক বছর ধরে ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হচ্ছে না। এরই ধারবাহিকতায় এবারো আষাঢ় শেষ হয়ে মধ্য শ্রাবণেও নওগাঁয় বৃষ্টির দেখা নেই। এতে বর্ষা মৌসুমেই দীর্ঘ খরার কবলে পড়তে হয়েছে। একই সঙ্গে দেখা দেয় প্রচন্ড দাবদাহ। এতে আমন ধানের চারা রোপণে বিপাকে পড়েন কৃষক। তবে গত এক সপ্তাহ যাবত এ চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। গত সাতদিন জেলার ১১টি উপজেলায় শুরু হয়েছে মাঝারি বৃষ্টি। এতে যেসব মাঠের জমি দাবদাহে ফেটে চৌচির হতে বসেছিল, সেখানে জমতে শুরু করেছে বৃষ্টির পানি। টানা এক মাস পর বৃষ্টির পানি পেয়ে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন জেলার চাষীরা। তবে এ মৌসুমে ধান রোপণ বিলম্বিত হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৯৮৫ হেক্টর, রানীনগরে ১৮ হাজার ৬৯০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৬ হাজার ৬৯৫ হেক্টর, বদলগাছীতে ১৪ হাজার ৩২৫ হেক্টর, মহাদেবপুরে ২৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর, মান্দায় ১৫ হাজার ৯২৫ হেক্টর, পত্নীতলায় ২৭ হাজার ১৫০ হেক্টর, ধামইরহাটে ২০ হাজার ৪৫৫ হেক্টর, সাপাহারে ৯ হাজার ৭৯০ হেক্টর, পোরশায় ১৫ হাজার ৫৮০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুরে ২৯ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যেখানে ইতিমধ্যে ৫৩ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। যা আমন ধান রোপনের লক্ষমাত্রার ২৭ শতাংশ।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, এবছর আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবন মাস শুরু হলেও টানা এক মাস বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে তীব্র পানি সংকটে আমন ধান রোপন শুরু করতে পারছিলেন না জেলার সিংহভাগ চাষীরাই। এক পর্যায়ে আমনের বীজতলাও নষ্ট হতে বসেছিল। ওই পরিস্থিতিতে চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধান রোপনে কৃষি বিভাগের লক্ষমাত্রা ব্যাহত হওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছিল। লক্ষমাত্রা অর্জনে বিএমডিএ সম্পূরক সেচ চালু করলেও তা যথেষ্ট ছিলো না। আবার সেচের বাড়তি খরচ বহন করতেও সক্ষম ছিলেন না বেশিরভাগ চাষীরাই। বিষয়টি নিয়ে যেমন কৃষি বিভাগ দুঃশ্চিন্তায় ছিলো, একইভাবে ধান রোপনে বিলম্ব হলে ধানে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ফলন কম হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন চাষীরাও। এরই মধ্যে গত ৭ দিন যাবত জেলার ১১টি উপজেলায় মাঝাড়ি ধরনের বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা ৭ দিনের মাঝাড়ি বৃষ্টিপাতে খড়ায় ফেঁটে চৌচির হওয়া সকল মাঠের জমি আবারো সতেজ হতে শুরু করেছে। বর্তমানে নিজ নিজ জমি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা।

জমি প্রস্তুতের পর তড়িঘড়ি করেই সেখানে রোপন করছেন আমন ধানের চারা। সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের মুরাদপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমন ধান পুরোপুরি বৃষ্টি নির্ভর ফসল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হলে এই ফসল করা যায় না। এবছর বীজতলা প্রস্তুত রেখেও পানির অভাবে সময়মতো ধান রোপন করতে পারিনি। সেচ দিয়ে যারা ধান রোপন করেছিলো তাঁদের অনেকেরই জমির রোপনকৃত ধান জমিতেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন হলো বৃষ্টি হচ্ছে। আমার ৩ বিঘা জমির মধ্যে ২ বিঘা ধান রোপনের জন্য হালচাষ করে প্রস্তুত করেছিলাম। ইতিমধ্যে সেখানে ধান রোপন করাও শেষ। বাকী ১ বিঘা এখন প্রস্তুতের অপেক্ষায় আছি। একই উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ইলশাবাড়ী গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, যেই বৃষ্টি আষাঢ় মাসে হওয়ার কথা। সেটা তো হলোই না।

এখন শ্রাবন মাসে এসে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। যেটুকু বৃষ্টি হচ্ছে তা যথেষ্ট নয়। বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সকলেই একসাথে ধান রোপন শুরু করেছে। তাই শ্রমিকের মজুরি কিছুটা বেশি দিয়েই সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এই ধান লাগানো সম্ভব হলে ধানের ভালো উৎপাদন হয়ে থাকে। এবার ধান রোপন বিলম্ব হওয়ায় ধানে পোকার আক্রমন এবং ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কৃষক আবদুল কাদের বলেন, এবছর যে খড়া আমরা দেখেছি, বিগত ৫ বছর এমন খড়া আমাদের মোকাবিলা করতে হয়নি। গত ১৯ জুলাই বৃষ্টির জন্য আমরা গ্রামবাসী ইন্তেস্কার নামাজ আদায় করেছি। এরপর থেকেই আল্লাহর রহমতে মাঝাড়ি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

আমার ৭ বিঘা জমির মধ্যে ইতিমধ্যে ১ বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। বাকী জমিগুলো ধান রোপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এখন আর ধান রোপনে সমস্যা নেই। বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিয়ল গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খড়ার মধ্যে ধান রোপন পিছিয়ে পড়েছিলো। এজন্য আষাঢ় মাসের শেষের দিকে আমার ৩ বিঘা জমির মধ্যে ১ বিঘা জমি সেচ দিয়ে ধান রোপন করেছিলাম। ২ সপ্তাহ পর সেচ খরচ বহন করতে না পারায় অনেক ধানের গাছ হলুদ বর্ণ ধারন করে মরতে বসেছিলো। এখন বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চারাগুলো আবারো সতেজ হয়ে উঠছে।

বাকী জমিগুলোতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ধান রোপন করেছি। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে ফসল ঠিকভাবে ঘরে উঠাতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) একেএম মনজুরে মাওলা বলেন, এবছর তেমন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা আমন ধান রোপনে পিছিয়ে পড়েছিল। কৃষি বিভাগের লক্ষমাত্রা অর্জনে ওই মুহুর্তে জেলার সকল গভীর ও অগভীর নলকূপ, এলএলপি এবং অন্যান্য সেচ পাম্প চালু করতে অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তবে এতে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকরাই আগ্রহী হয়নি। এখন জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ১ সপ্তাহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই লক্ষমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদী তিনি।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩১ জুলাই ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:২৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit