আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসা পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে পিএমএল-এন সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। গণতান্ত্রিক সরকার হয়েও শুরুতেই কঠোর প্রতিরোধের আচরণ কেন শাহবাজ সরকারের–চলছে সে আলোচনা। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে সম্প্রতি ইসলামাবাদের মসনদে বসেছে শাহবাজ সরকার। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পূর্বঘোষিত ‘আজাদি মার্চ’ ঠেকাতে অদ্ভুত এক কৌশল অবলম্বন করে সরকার। মহাসড়কে কনটেইনার দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয় রাজধানী ইসলামাবাদকে, যা এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দেখা যায়নি কখনো।
ইমরান খানের গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আটকাতে পাকিস্তানের নতুন সরকারের এমন পদক্ষেপকে ‘কনটেইনার তত্ত্ব’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে। সমালোচকরা বলছেন, বারবার সেনা শাসনের কবলে পড়া পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে আসছে। এমনকি বর্তমান শাসক দল পিএমএল-এনেরও সেনা শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। তবে ইমরান খানের লংমার্চ ঠেকাতে গণতান্ত্রিক সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্বৈরতন্ত্রেরই নতুন রূপ বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের ওই পদক্ষেপকে দেশটির রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি হিসেবে দেখছেন। এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো আন্দোলন দমনে ব্যবহার করতে পারে বলে শঙ্কা রাজনীতি বিশ্লেষকদের।
এর আগে, পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান ইসলামাবাদে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে রেড জোনে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেয় সরকার। আজাদি মার্চ ঠেকাতে অন্যান্য প্রদেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করা হয় রাজধানীকে। রাস্তায় বসানো হয় ভারী কনটেইনার। এদিকে, ইমরান খানকে উৎখাত করতে যুক্তরাষ্ট্র ষড়যন্ত্র করেছিল বলে যে অভিযোগ পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত মাসটি ছিল পাকিস্তান এবং গণতন্ত্রের জন্য মাইলফলক।
কিউএনবি/আয়শা/২৬.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৪৫