বাদল আহাম্মদ খান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে হামলার শিকার হয়েছে দুই সাংবাদিক। বৃস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনে চিহ্নিত লাগেজ পার্টির সদস্য কবির মিয়ার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন আখাউড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা টাইমস ও দৈনিক যায়যায়দিনের আখাউড়া প্রতিনিধি হান্নান খাদেম এবং মাইটিভি ও দেশরূপান্তর প্রত্রিকার আখাউড়া প্রতিনিধি মোঃ জালাল হোসেন মামুন। এ বিষয়ে আখাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করা হয়েছে।
জিডির বিবরণ ও হামলার শিকার সাংবাদিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ওই সাংবাদিক স্থল শুল্ক স্টেশনে যায়। এসময় শুল্ক ষ্টেশনের ব্যাগেজ কক্ষ থেকে কবির মিয়া বড় বড় ৫/৬টি ব্যাগ বের করে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা শুল্ক কর্মকর্তার কাছে এসব মালামালের শুল্ক আদায় হয়েছে কিনা জানতে চায়। একথা বলার সাথেই সাথেই লাগেজ পার্টির হোতা কবির মিয়া, দেলোয়ার হোসেন ঠান্ডু মিয়া ও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা সাংবাদিকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। এক পর্যায়ে কবির মিয়া হান্নান খাদেমকে গলা ধাক্কা মেরে হুমকি দেয় ‘বন্দরে আসলে মাইরা লাশ ফালাই দিমু’। তাদের চিৎকার চেচামেচি শুনে শুল্ক ষ্টেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও অন্যান্য লোকজন এগিয়ে আসলে কবির মিয়া ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ব্যাগ নিয়ে দ্রুত চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। খবর পেয়ে অন্যান্যরা সাংবাদিকরাও ছুটে যায়।
এ ব্যপারে সাংবাদিক হান্নান খাদেম বলেন, লাগের পার্টির বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় তারা সাংবাদিকদের উপর উপর ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জের ধরে কবির মিয়া আমার উপর হামলা করেছে।জানতে চাইলে স্থল শুল্ক ষ্টেশনের সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। অফিসে এসে শুনেছি সাংবাদিকদের সাথে গোলমাল হয়েছে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে সাংবাকিরা এসে বিষয়টি আমাকে অবগত করেছে। এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, সাধারণ ডাইরী পেয়েছি। বিধি মোতাবেক তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লাগেজ পার্টির সদস্যরা ভারত থেকে কাপড়, কসমেটিক্স ও ওষুধসহ অন্যান্য বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। এসব পণ্য কখনও টেক্স ফাঁকি দিয়ে, আবার কখনও প্রভাব খাটিয়ে কম টেক্স দিয়ে নিয়ে যারা। কাস্টম্স, বিজিবি ও সাংবাদিকদের তৎপরতার কারণে গত এক মাসে বেশ কিছু চালান ধরা পড়েছে। এ নিয়ে পত্রিকা ও টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তারা।
কিউএনবি/আয়শা/১২ই মে, ২০২২/২৯ বৈশাখ, ১৪২৯/রাত ৮:২০