আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবন্ধী একজন কিশোরকে বিমানে উঠতে না দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিগো বিমানের কর্মচারীরা ওই কিশোরের অভিভাবককে বলেছেন, অন্য যাত্রীদের জন্য ওই কিশোর বড় ধরনের হুমকি। এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, শিশুটি ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ হওয়ায় বিমানে ওঠার মুহূর্তে ভীষণ ভয় পেতে শুরু করে।
এতে বিমানে উপস্থিত অন্য যাত্রীদের সমস্যা হবে ভেবে তাকে বিমানে উঠতে বাধা দেন বিমানের কর্মচারিরা। ভারতের রাঁচির বিমানবন্দরে গত শনিবার এই ঘটনা ঘটে। ইন্ডিগো বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা কোনো ভাবেই পক্ষপাতিত্বকে সমর্থন করেন না। শিশুটির ওই রকম আচরণ দেখে অনেক যাত্রীই নিরাপত্তার অভাব বোধ করতেন। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিমানের এক যাত্রী পুরো ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, অন্য যাত্রীরাও এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সংবাদ উদ্ধৃত করে জানান, সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশ দেওয়া রয়েছে- ‘বিশেষভাবে সক্ষম’ কোনো যাত্রী বিমানে যাতায়াত করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে কোনো বাধা নিষেধ নেই।
সেই মুহূর্তে বিমানে কয়েকজন চিকিৎসকও উপস্থিত ছিলেন। উড়ন্ত অবস্থায় শিশুটি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করলে তারা যথাসাধ্য সাহায্য করতে পারতেন। বিমান ছেড়ে দেওয়ার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন কিশোরের পরিবার। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে এই নিয়ে ঝামেলা চলে। ইন্ডিগো বিমানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাচ্চাটিকে কিছুতেই শান্ত করা যাচ্ছিল না। বিমানের এক যাত্রী বিমানের কর্মকর্তার উদ্দেশে বলেছেন, এখানে কেউ অশান্ত হলে, তা আপনিই। ইন্ডিগো বিমানের পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে রাতে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। গতকাল রবিবার সকালের বিমানে যাওয়ার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন বিমানের কর্মকর্তা। তারা জানিয়েছেন, বিমানের কোনো যাত্রী বা কর্মচারীদের কোনো রকম অসুবিধার মুখে ফেলতে চান না।
সূত্র: বিবিসি।
কিউএনবি/আয়শা/৯ই মে, ২০২২/২৫ বৈশাখ, ১৪২৯/বিকাল ৩:১৯