
এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় দুই মাসের পরিচয়ে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে ওয়াসিম হোসেন রুবেল (২৩) নামে এক প্রাইভেটকার চালক। ধর্ষণের পর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় রুবেল। বিষয়টি নিজের মা-বাবাকে জানায়ওই শিক্ষার্থী। ২৫ মার্চ শুক্রবার ওয়াসিম হোসেন রুবেলকে এ মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।বিষয়টি জানার পর তারা ধর্ষকের মা-বাবার সাথে যোগাযোগ করেন। এতে তারা উল্টো হুমকি ধামকি দেয় শিক্ষার্থী ও তার মা-বাবাকে। যারফলে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাবা-মা ব্যাপক গালমন্দ ও বকা-বকি করেন। কোনোউপায় না পেয়ে বৃহ¯পতিবার বিকালে ওই শিক্ষার্থী নিজে চৌগাছা থানায় হাজির হয়। এ সময় সে কান্নাকাটি করতে থাকলে চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বিষয়টি আমলে নেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্ত ওয়াসিম হোসেন রুবেলকে (২৩) আটক করেন।
পরে ওই শিক্ষার্থীর মা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। আটক ওয়াসিম হোসেন রুবেলকে এ মামলায় আটক দেখিয়ে ২৫ মার্চ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক ওয়াসিম হোসেন রুবেল উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের কাদবিলা গ্রামের মৃত বাচ্ছু মিয়ার ছেলে। সে পেশায় প্রাইভেটকার চালক। আর ধর্ষিতা অন্য একটি ইউনিয়নের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একটি গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, দুইমাস আগে আমার বড় মেয়ে ওয়াসিম হোসেন রুবেলের প্রাইভেটকার ভাড়া করে আমাদের বাড়িতে আসে। সে দিন আমার মেয়ের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের স¤র্পক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে আমার নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে করবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ২০ মার্চ আমার মেয়ে উপজেলার জামিরা গ্রামে আমার ভাইয়ের শ্যালক আলামিনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করে ওয়াসিম হোসেন রুবেল সেখানে যায়। ওই সময় বাড়িতে কোনো লোকজন না থাকার সুযোগে সে আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবারো ধর্ষণ করে। পরে সে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে আমার মেয়ে সকল ঘটনা আমাকে জানালে আমি রুবেলের বাবা ও মাকে জানানোর চেষ্টা করি। এতে রুবেল আমার ও আমার মেয়েকে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদান করে।
ওয়াসিম হোসেন রুবেল আমার মেয়ের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার সাথে প্রেম-ভালবাসার স¤পর্ক গড়ে তোলে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার নাবালিকা মেয়েকে একাধিকবার তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি অভিযোগ করছেন বলেও লিখিত অভিযোগে জানান।চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মেয়েটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/২৫শে মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৪২