
মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করছে কতিপয় প্রভাবশালী মহল। বন্ধ হয়ে পড়েছে দির্ঘদিনের পানি প্রবাহের পথ।এতে করে বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ঘর-বাড়ীসহ কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি। এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর- গবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী পৌর শহরের ঢাকা মোড় থেকে বারকোনা হয়ে পূর্ব নারায়নপুর প্রর্যন্ত মহাসড়কটির দুই পার্শের সড়ক ও জনপদের জায়গা দখল করে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর- গবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে আবাদী জমির কোল ঘেষে জমি খরিদ করে তাদের জায়গার সামনে সড়ক ও জনপদের জায়গায় মাটি ভরাট করেছে কিছু প্রভাবশালী মহল। একইভাবে সড়ক ও জনপদের জায়গায় মাটি ভরাট করেছে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উজ্জল মহন্ত, সুমির কুমার, ডাক্তার তাপশ, প্রকৌশলী লুৎফুল হুদা চৌধুরী, আব্দুল কাদের দুলাল, আলহাজ¦ মনসুর আলী সরকারসহ আরো অনেকে। এতেকরে পৌর এলাকার পুর্ব গৌরীপাড়া, পুর্ব কাঁটাবাড়ী, বারকোনা, রেলস্টেশনের পুরো এলাকাসহ চকচকা গ্রামের আংশিক এলাকার দির্ঘদিনের পানি প্রবাহের পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার আবাদী জমি, ঘর-বাড়ী সহ কয়েকটি মৌজার প্রায় তিন হাজার বিঘার অধিক ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বারকোনা গ্রামের সাবেক পৌর কাউন্সিলর কৃষক আবু রায়হান বুলবুল বলেন, এই পথ দিয়ে বারকোনাসহ আশপাশের গ্রাম সহ ফসলের মাঠের পানি প্রাবাহিত হয়, কিন্তু পানি প্রবাহের পথটিতে মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মান করায় সেই পানি প্রবাহের পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাঘ মাসের সামান্য বৃষ্টিরপানিতে পানি জমে রয়েছে, বর্ষা মৌসুমে যে এই এলাকা পানিতে তলিয়ে যাবে, তাতে কোন সন্দেহ নাই। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এখন প্রর্যন্ত কোন প্রতিকার মিলেনি। একই কথা বলেন, কাঁটাবাড়ী গ্রামের তমাল হোসেন ও মন্টু মিয়া।
কৃষকরা বলছেন সময় থাকতে পানি প্রবাহের পথ খুলে দেয়া না হলে, আগামীতে কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গিয়ে ফসলহানীর আশঙ্কা দেখা দিবে। এতে পথে বসতে হবে কয়েক’শ কৃষক পরিবারকে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর জায়গায় মাটি ভরাটকারী ডাক্তার তাপশ এর সাথে এই বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, সকলে মাটি ভরাট করছে তাই তিনিও ভরাট করেছেন। সুমির চন্দ্র বলেন, প্রয়োজনে পানি প্রবাহের পথ খুলে দেয়া হবে। আবার কেউ কেউ দাবী করছেন তাদের জমির সামনে থাকা সড়ক ও জনপদের জায়গা তাদের ব্যবহারের অধিকার রয়েছে এই জন্য তারা মাটি ভরাট করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিতি চাকমা বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক ও জনপদের জায়গা দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করা হবে। এদিকে মাটি ভরাটকরে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার বিষয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে,শিঘ্রই মাটি ভরাটকারী দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:৩৯